বিহারে ভয়াবহ বন্যা! গঙ্গার জল ছাপাল পুরনো রেকর্ড, ২২ লক্ষের বেশি মানুষ!

বিহারে ভয়াবহ বন্যা! গঙ্গার জল ছাপাল পুরনো রেকর্ড, ২২ লক্ষের বেশি মানুষ!

নিজস্ব সংবাদদাতা : টানা বৃষ্টি এবং একের পর এক নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির মুখে বিহার। প্রতি বছর বর্ষায় গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধির কারণে পটনার একাধিক নিচু আবাসিক এলাকা প্লাবিত হয়। এ বারও পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গঙ্গার পাশাপাশি রাজ্যের একাধিক নদী বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে।টানা বৃষ্টির জেরে ফুলেফেঁপে উঠেছে গঙ্গা। বিহারে পটনায় গঙ্গার জলস্তর আগের সর্বোচ্চ জলস্তরের রেকর্ডও ছাপিয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যেই বিহারের ১৪টি জেলা প্লাবিত হয়েছে। ২২ লক্ষেরও বেশি মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন।

গঙ্গার জল আরও বাড়তে পারে, এই আশঙ্কায় পটনা-সহ নীচের দিকের একাধিক জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।গঙ্গার পাশাপাশি গণ্ডক, কোসি, বুড়ি গণ্ডক, পুনপুন, বাগমতী এবং ঘাঘরা নদীর জলস্তরও বিভিন্ন জায়গায় বিপদসীমা ছাড়িয়েছে। জলস্তর আরও বাড়ার আশঙ্কায় নদীর বাঁধ, নিচু এলাকা এবং দুর্বল জায়গাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।বন্যার প্রভাব পড়েছে রেল পরিষেবাতেও। পুনপুন ও পারসা বাজার স্টেশনের সংযোগকারী সেতুর কাছে জল বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় পটনা-গয়া শাখায় কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি, কিছু ট্রেনের পথও পরিবর্তন করেছে পূর্ব-মধ্য রেল।

বন্যা মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। পটনার বিভিন্ন এলাকায় ১৯০টি কমিউনিটি কিচেন চালু রয়েছে। দুর্গত মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নামানো হয়েছে ১,৪২৯টি নৌকা। পাশাপাশি, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ২৭টি দল এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ১০টি দল বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন রয়েছে।

প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী বন্যাবিধ্বস্ত জেলাগুলির মধ্যে রয়েছে পটনা, ভোজপুর, সারণ, বৈশালী, ভাগলপুর, বেগুসরায়, বক্সর, সমস্তিপুর, মুঙ্গের, কটিহার, লখিসরায়, খাগাড়িয়া, পুর্ণিয়া এবং অরওয়াল। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ২৭টি দল এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ১০টি দল মোতায়েন করা হয়েছে। ভাগলপুরের সুলতানগঞ্জে বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে গঙ্গার জল। এ ছাড়াও গণ্ডক, কোশী, বুড়ি গণ্ডক, পুনপুন, বাগমতী এবং ঘাঘরা বহু জায়গায় বিপদসীমার উপরে পৌঁছে গিয়েছে। ৭২৩টি কমিউনিটি কিচেন তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়াও বন্যাদুর্গতদের জন্য ১৫টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। ১৩ হাজার ৪৪৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।এদিকে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব।

কেন্দ্রের কাছে অবিলম্বে জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণা করে বিহারের জন্য বিশেষ আর্থিক সাহায্যের দাবি তুলেছেন তিনি। পাশাপাশি, উদ্ধার ও ত্রাণকাজে বায়ুসেনার হেলিকপ্টার নামানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিহার সফরেরও দাবি জানিয়েছেন তেজস্বী।