Skip to content

৩০০ একর জমি, কয়েকশো কোটির দুর্নীতি! সুজয় হাজরা গ্রেফতারের পর সামনে আসছে নতুন বিস্ফোরক তথ্য!

সেখ ওয়ারেশ আলী : প্রকাশ্যে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। জমি জালিয়াতি মামলায় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরা গ্রেফতার হওয়ার পর এবার এই বহুচর্চিত কাণ্ডে নাম জড়িয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাক্তন সহায়ক সুমিত রায়েরও। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ।

শালবনীর একাধিক মৌজায় পৌঁছে গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর দাবি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে তা রায়তি জমি হিসেবে দেখানো হয়। এরপর জাল নথি তৈরি করে সেই জমি একাধিকবার হাতবদল করে শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।সীতারামপুর, আহমেদপুর, কালিচক মেটাল-সহ একাধিক মৌজায় প্রায় ৩০০ একর জমি জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, জাল দলিল, ভুয়া পর্চা এবং নকল ভূমি রেকর্ড তৈরি করে এই বিশাল চক্র কয়েকশো কোটি টাকার দুর্নীতি করেছে। এমনকি উদ্বাস্তু কলোনির জমিও জাল নথির মাধ্যমে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তদন্তে নেমে পুলিশ একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পাচ্ছে বলে সূত্রের খবর। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, জমি মাফিয়াদের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের যোগসাজশেই এই বিপুল পরিমাণ জমি হাতবদল হয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রায় ৩০০ একর জমি বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ লুট হয়েছে এবং সেই অর্থের সুবিধাভোগী কারা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে খালি জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রতি একর প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে, পাঁচিল ঘেরা ও উন্নয়নযোগ্য জমির মূল্য ৩০ লক্ষ টাকা বা তারও বেশি। অভিযোগ, জমির দখল নিশ্চিত করতে দ্রুত বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করাই ছিল এই চক্রের অন্যতম কৌশল, যাতে পরবর্তীতে মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে এই দুর্নীতির প্রকৃত আর্থিক পরিমাণ কত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদি ৩০০ একর জমির গড় মূল্য প্রতি একর ১৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা ধরা হয়, তাহলে শুধু জমির বর্তমান বাজারমূল্যই দাঁড়ায় আনুমানিক ৪৫ কোটি থেকে ৯০ কোটি টাকার মধ্যে। কিন্তু একাধিকবার হাতবদল, শিল্প প্রকল্পের জন্য উচ্চমূল্যে বিক্রি এবং জাল নথির মাধ্যমে লেনদেনের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দুর্নীতির অঙ্ক কয়েকশো কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।এখন প্রশ্ন একটাই—এই বিশাল জমি কেলেঙ্কারির নেপথ্যে আর কারা জড়িত? তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের অস্বস্তি।

Latest