Skip to content

শালবনিতে বিএলও-র রহস্যমৃত্যু ঘিরে উত্তাল রাজনীতি, চাপে ছিলেন শিক্ষক সুবিমল কারক—অভিযোগ পরিবারের!

পশ্চিম মেদিনীপুর সেখ ওয়ারেশ আলী : পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে এক বিএলও-র মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। মৃতের নাম সুবিমল কারক (৫৮)। তাঁর বাড়ি শালবনী থানার অন্তর্গত হাতিমারি এলাকায়। পেশায় তিনি সাবলি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। পাশাপাশি মেদিনীপুর বিধানসভার ১৮ নম্বর বুথের বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।পরিবারের অভিযোগ, শুরু থেকেই বিএলও-র দায়িত্ব নিতে অনিচ্ছুক ছিলেন সুবিমলবাবু।

তবুও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে এই দায়িত্ব নিতে বাধ্য করা হয় বলে দাবি পরিবারের। এই অতিরিক্ত দায়িত্ব এবং কাজের চাপের কারণেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রবল মানসিক চাপে ভুগছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোররাতে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন সুবিমল কারক। দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে চিকিৎসক বাড়িতেই তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ঘটনার খবর পেয়ে ৫ই মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুরে মৃতের বাড়িতে পৌঁছন স্থানীয় বিধায়ক শ্রীকান্ত মাহাতা, সুজয় হাজরা এবং সন্দীপ সিংহ। এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সুজয় হাজরা বলেন, “এটা নির্বাচন কমিশন নয়, নির্যাতন কমিশন।

এই অত্যাচার মানুষ কোনওদিন ভুলবে না। এর সম্পূর্ণ দায় নির্বাচন কমিশনের।”অন্যদিকে মৃতের মেয়ে সূচন্দ্রিমা কারক আবেগঘন কণ্ঠে জানান, “বাবা খুব চাপের মধ্যে ছিলেন। সারাদিন কাজ করতেন। বাবার আগে থেকেই হার্টের সমস্যা ছিল। এই মুহূর্তে আমরা কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।”এই ঘটনায় শালবনি ও আশপাশের এলাকায় গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে ঘটনার রাজনৈতিক ব্যাখ্যা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিজেপির অভিযোগ, মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে নোংরা রাজনীতি করা হচ্ছে এবং তৃণমূল এই ঘটনাকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করছে।

Latest