সেখ ওয়ারেশ আলী : আজ বৃহস্পতিবার ১২ই ফেব্রুয়ারি থেকে রাজ্যে শুরু হল উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা। ট্রাফিক পুলিশের মানবিকতায় রক্ষা পেল চার ছাত্রীর ভবিষ্যৎ — প্রথম দিনের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসতে পারতো না পরীক্ষার্থীরা। উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার প্রথম দিনেই মেদিনীপুর শহরে সামনে এল মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এডমিট কার্ড ভুলে যাওয়ায় পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিল একই স্কুলের চার ছাত্রী। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ ও আন্তরিক সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় বসার সুযোগ পেল তারা।

ভাদুতলা বিবেকানন্দ হাইস্কুলের ওই চার ছাত্রী নির্ধারিত পরীক্ষা কেন্দ্র মেদিনীপুর শহরের কুইকোটা শঙ্করী বিদ্যানিকেতনে সময়মতো পৌঁছালেও সঙ্গে এডমিট কার্ড না থাকায় কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেনি। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনেই কান্নায় ভেঙে পড়ে তারা।বিষয়টি নজরে আসতেই পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে দায়িত্বরত ট্রাফিক ওসি প্রদীপ মন্ডল সঙ্গে সঙ্গে উদ্যোগ নেন।

কোনও বিলম্ব না করে চারটি বাইকের ব্যবস্থা করা হয়। এরপর নিজে তত্ত্বাবধানে চার পরীক্ষার্থীকে ভাদুতলার কড়াদানা গ্রামে তাদের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে এডমিট কার্ড সংগ্রহ করে আবার দ্রুত পরীক্ষা কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা হয়।এই সময় পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে উপস্থিত ছিলেন ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মিতালী ব্যানার্জি। তিনিও পরীক্ষার্থীদের মানসিক ভরসা জোগান এবং অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দেন।

পুলিশের এই মানবিক উদ্যোগে চোখের জল মুছে ফের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মন দেয় চার ছাত্রী। সময়মতো পরীক্ষার হলে ঢুকতে পেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে তারা। পরীক্ষার্থীরা জানান, পুলিশের এই সহানুভূতিশীল আচরণ তারা কোনওদিন ভুলবে না।এলাকাবাসীর কথায়, পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপ না হলে চার ছাত্রীর একটি বছর নষ্ট হয়ে যেতে পারত। ট্রাফিক পুলিশের এই মানবিক ভূমিকা সমাজে পুলিশের প্রতি মানুষের বিশ্বাস আরও দৃঢ় করল।