৭০-এও ৫০-এর তারুণ্য! রেড রোডে যোগের ১০ ‘মিরাকল’ ব্যাখ্যা করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী!

৭০-এও ৫০-এর তারুণ্য! রেড রোডে যোগের ১০ ‘মিরাকল’ ব্যাখ্যা করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী!

নিজস্ব সংবাদদাতা : আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে রবিবার কলকাতার রেড রোডে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে যোগের বহুমুখী উপকারিতা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস বাংলার মাটিতে উদযাপন করতে পেরে তিনি বিশেষ আনন্দ ও আত্মিক তৃপ্তির কথা প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে যোগের মাধ্যমে সুস্থ জীবনযাপন, মানসিক প্রশান্তি এবং সামাজিক ঐক্যের বার্তা।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর বক্তব্যের উল্লেখযোগ্য দিকগুলি

১. কলকাতাবাসীর প্রশংসা : প্রধানমন্ত্রী বলেন, কলকাতার মানুষ যে আন্তরিকতা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শহরের পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সচেতনতারও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

২. পশ্চিমবঙ্গের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের উল্লেখ : তিনি স্মরণ করেন শ্রী অরবিন্দ, স্বামী বিবেকানন্দ এবং শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের মতো মহাপুরুষদের। তাঁদের আদর্শ ও দর্শনের সঙ্গে যোগের গভীর সম্পর্ক রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

৩. ‘আমার জীবনই যোগ’ : শ্রী অরবিন্দের উক্তি উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগ কেবল শরীরচর্চা নয়, এটি মানবচেতনার বিকাশ ও আত্মিক উন্নতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

৪. ২১ জুনের বিশেষ তাৎপর্য : ২১ জুন পৃথিবীর দীর্ঘতম দিনগুলির অন্যতম হলেও, আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর দিনটির গুরুত্ব বিশ্বজুড়ে আরও বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

৫. যোগ মানুষকে একসূত্রে বাঁধে : প্রধানমন্ত্রীর মতে, ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্ম কিংবা দেশের ভেদাভেদ ভুলে যোগ মানবজাতিকে একত্রিত করে এবং বিশ্বভ্রাতৃত্বের বার্তা বহন করে।

৬. বিশ্বব্যাপী যোগের জনপ্রিয়তা : তিনি বলেন, আজ ২১ জুন বিশ্বের বৃহত্তম জনঅংশগ্রহণমূলক উদযাপনগুলির অন্যতম হয়ে উঠেছে। কোটি কোটি মানুষ এই দিনে যোগাভ্যাসে অংশ নেন।

৭. সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি : নিয়মিত যোগাভ্যাস শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। আধুনিক জীবনযাত্রার নানা সমস্যার মোকাবিলায় যোগ একটি কার্যকর উপায় বলেও জানান তিনি।

৮. মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি : যোগ মানসিক চাপ কমায়, মনকে শান্ত রাখে এবং জীবনে ইতিবাচকতা বাড়ায়। ফলে কর্মক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পায়।

৯. বয়সকে হার মানানোর মন্ত্র : প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিয়মিত যোগাভ্যাস একজন মানুষকে দীর্ঘদিন কর্মক্ষম ও সতেজ রাখতে পারে। তাঁর কথায়, “৭০ বছর বয়সেও ৫০ বছরের মতো অনুভব করা সম্ভব”।

১০. যোগকে জীবনের অংশ করার আহ্বান : যোগকে শুধুমাত্র একটি বিশেষ দিনের অনুষ্ঠান হিসেবে না দেখে প্রতিদিনের জীবনচর্চার অংশ করে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, ব্যক্তি সুস্থ থাকলে পরিবার সুস্থ থাকবে, আর সমাজ ও দেশও এগিয়ে যাবে সুস্থতার পথে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শেষে বলেন, যোগের দর্শন ভারতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি শরীর, মন এবং আত্মার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে মানবজীবনকে আরও সুন্দর ও অর্থবহ করে তোলে।