রাজনৈতিক মতভেদ দূরে সরিয়ে অবোলা প্রাণীদের জন্য অগ্নিমিত্রার দ্বারস্থ শ্রীলেখা!

রাজনৈতিক মতভেদ দূরে সরিয়ে অবোলা প্রাণীদের জন্য অগ্নিমিত্রার দ্বারস্থ শ্রীলেখা!

নিজস্ব সংবাদদাতা : অবোলা প্রাণীদের কল্যাণই তাঁর কাছে সবার আগে। রাজনৈতিক মতাদর্শে বিস্তর ফারাক থাকলেও পথকুকুর-সহ অবোলা প্রাণীদের স্বার্থে সেই বিভাজনকে দূরে সরিয়ে রাখতে দ্বিধা করলেন না অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। তাঁদের অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়ে আলোচনা করতে নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের সঙ্গে দেখা করলেন তিনি।অবোলা প্রাণীদের নিয়ে এর আগেও একাধিক বার সরব হয়েছেন শ্রীলেখা। নিজের আবাসনেও একসময় পথকুকুরদের জন্য লড়াই করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এ বার বৃহত্তর পরিসরে পথপশুদের খাওয়াদাওয়া ও তাঁদের নিয়ে কাজ করা মানুষের সমস্যার সমাধানের দাবিতে অগ্নিমিত্রার সঙ্গে বৈঠক করলেন অভিনেত্রী।রাজনৈতিক অবস্থানের দিক থেকে শ্রীলেখা ও অগ্নিমিত্রা ভিন্ন মেরুর মানুষ। তবে অভিনেত্রীর বক্তব্য, অবোলা প্রাণীদের প্রশ্নে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, তাঁদের অসহায় অবস্থাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারে, নিজের অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারে। কিন্তু অবোলা প্রাণীরা তা পারে না।শ্রীলেখা বলেন, “রাজনৈতিক দিক থেকে আমরা দু’জন সম্পূর্ণ দুই মেরুতে দাঁড়িয়ে। সেটা অগ্নিমিত্রা নিজেও জানেন। মানুষ অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে, প্রতিবাদ করতে পারে। কিন্তু অবোলারা তা পারে না। ওদের থাবায় ভোট নেই। তাই ওদের কল্যাণের কথা ভাবাই আমার প্রথম প্রাধান্য।”অভিনেত্রীর দাবি, অবোলা প্রাণীদের স্বার্থে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গেই প্রয়োজন অনুযায়ী কথা বলেছেন তিনি। নিজের ব্যক্তিগত কাজের জন্য কখনও কোনও রাজনৈতিক দলের দ্বারস্থ হননি বলেও জানান শ্রীলেখা। তাঁর কথায়, “নিজের কাজের জন্য কখনও তৃণমূলের কাছে যাইনি। কিন্তু অবোলা প্রাণীদের জন্য কুণাল ঘোষের সঙ্গে ক্যাম্প করেছি। আমি নওশাদ সিদ্দিকীর সঙ্গেও কথা বলে রেখেছি। অবোলা প্রাণীরা আমার কাছে সবার আগে।” এ বার অগ্নিমিত্রার সঙ্গে আলোচনার পর তাঁর কাছ থেকে ইতিবাচক আশ্বাস মিলেছে বলেই জানিয়েছেন শ্রীলেখা। পশ্চিমবঙ্গের অবলা পথপশু—কুকুর ও বিড়ালের সুরক্ষা এবং কল্যাণে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের কথা জানালেন রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পথপশুদের খাবার দেওয়া থেকে শুরু করে তাঁদের নিয়ে কাজ করা পশুপ্রেমীদের নানা সমস্যা এবং প্রাণীদের নিরাপত্তা—একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্তরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি ইতিবাচক আশ্বাসও দিয়েছেন মন্ত্রী বলে জানা গিয়েছে।পথপশুদের সুরক্ষা ও কল্যাণে প্রশাসনিক স্তরে কী পদক্ষেপ করা যায়, সেই বিষয়েই পরবর্তী সময়ে আরও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে পাশে রেখে অবোলা প্রাণীদের জন্য একই টেবিলে বসে আলোচনা—শ্রীলেখার এই উদ্যোগে আপাতত গুরুত্ব পাচ্ছে একটি বিষয়ই, পথপশুদের জন্য আরও নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশ তৈরি করা।