ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল ৩৮ বছর বয়সী আলু চাষি হরিপদ বাগের। পরিবারের দাবি, আলুর ন্যায্য দাম না পাওয়া, ঋণের বোঝা এবং টানা বৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার চাপই তাঁর মৃত্যুর প্রধান কারণ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি।ঘাটালের ব্রহ্মঝাতুল গ্রামের বাসিন্দা হরিপদ বাগ রবিবার রাতে বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতের স্ত্রী বুলটি বাগ জানান, “আমরা তিন বিঘা জমিতে আলুর চাষ করেছিলাম। কিন্তু বাজারে আলুর দাম একেবারেই তলানিতে, অথচ বস্তার দাম আকাশছোঁয়া। তার ওপর বৃষ্টিতে মাঠেই ফসলের বড় অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। যে আলু রয়েছে, তাও পচে যাচ্ছে।”এর আগেও একই সমস্যায় প্রাণ হারানোর অভিযোগ উঠেছিল আরেক চাষির ক্ষেত্রে। চন্দ্রকোনা থানার বাসিন্দা রাখাল আরি (৩১)-র মৃত্যুর জন্যও আলুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়াকেই দায়ী করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। সেই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ক্ষোভ জমতে শুরু করে।এদিকে, সোমবার চন্দ্রকোনার নকরাবাগ এলাকায় চাষিরা স্থানীয় হিমঘরগুলির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঘাটাল-আরামবাগ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। কোল্ড স্টোরেজের গেট আটকে দেওয়ায় আলু বোঝাই ট্রাক ও ট্র্যাক্টর দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে, ফলে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।চাষিদের অভিযোগ, একদিকে আলুর বাজারদর ভেঙে পড়েছে, অন্যদিকে সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও একাধিক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। ফলে উৎপাদনের পরেও লাভের মুখ দেখছেন না কৃষকরা। বারবার এমন পরিস্থিতিতে চাষিদের আর্থিক ও মানসিক চাপ চরমে পৌঁছচ্ছে—এই মৃত্যুই তার করুণ প্রমাণ বলে মনে করছেন অনেকেই।
আলুর দামে ধস, ঋণের চাপ—ঘাটালে চাষির মৃত্যুতে তীব্র ক্ষোভ, রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ!