Skip to content

আলুর দামে ধস, গোঘাটে আত্মঘাতী চাষি বাপন সুর—পরিবারের দাবি ক্ষতির বোঝা সইতে না পেরেই চরম সিদ্ধান্ত!

নিজস্ব সংবাদদাতা :  চন্দ্রকোণা ও গলসির পর এবার হুগলির গোঘাটে আলু চাষিকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। পর্যাপ্ত দাম না পাওয়ার হতাশা থেকেই আত্মঘাতী হলেন এক চাষি—এমনটাই দাবি পরিবারের। মৃতের নাম বাপন সুর। তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া, পাশাপাশি উঠছে প্রশ্ন—আলুর ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কি ক্রমেই ভেঙে পড়ছেন রাজ্যের চাষিরা?পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১০ বিঘা জমি ভাগে নিয়ে আলু চাষ করেছিলেন বাপন। কিন্তু এ বছর বাজারে আলুর দাম একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। গত বছর ঋণ নিয়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ গাড়ি আলু হিমঘরে মজুত করেছিলেন তিনি। কিন্তু পরে সেই আলু বস্তা প্রতি মাত্র ৭০ টাকা দরে বিক্রি করতে বাধ্য হন। এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন বাপন—এমনটাই দাবি পরিবারের সদস্যদের।পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই ক্ষতির চাপ ও ঋণের বোঝা নিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। শেষমেশ শনিবার রাতে নিজের বাড়িতেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন বাপন সুর। পরিবারের লোকজন দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।এদিকে রাজ্যে আলু চাষিদের ন্যায্য দাম না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলেও তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ব্রিগেড সমাবেশে এসে এই ইস্যুতে সরব হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর বক্তব্য, “চাষিরা আত্মহত্যা করছেন। পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে শুরু করে হুগলি, বর্ধমান—বহু জেলায় চাষিদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সরকারের মধ্যেই সমস্যা রয়েছে। দুর্নীতির কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, চাষিদের জীবন আজ প্রশ্নের মুখে।”রাজ্যে একের পর এক আলু চাষির মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, চাষিদের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে না পারার ফলেই এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলি ঘটছে। তবে এই ঘটনায় প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।

Latest