Skip to content

দেশের জন্য সব বিসর্জন, নীরব বীরাঙ্গনা সেহমত খানের অজানা কাহিনি!

১৯৭১ সালের Indo-Pakistani War of 1971-এর সময় ভারতের জন্য নিঃশব্দে এক অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছিলেন Sehmat Khan। তিনি শুধু একজন গুপ্তচর ছিলেন না, ছিলেন এক সাহসী দেশপ্রেমিক, যিনি দেশের স্বার্থে নিজের পরিচয়, ব্যক্তিগত জীবন এবং সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়েছিলেন।তখন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছিল। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা Research and Analysis Wing(RAW)-এর কাছে খবর ছিল, পাকিস্তান বড় ধরনের সামরিক পরিকল্পনা করছে। সেই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সামরিক অন্দরমহলে পৌঁছতে সক্ষম এমন একজনের প্রয়োজন ছিল, আর সেই দায়িত্বই কাঁধে তুলে নেন তরুণী সেহমত।কাশ্মীরের এক সাধারণ কলেজ পড়ুয়া মেয়ে থেকে তিনি হয়ে ওঠেন ভারতের “নীরব যোদ্ধা”। বাবার ইচ্ছা ও দেশের স্বার্থে তিনি বিয়ে করেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর এক উচ্চপদস্থ অফিসারের ছেলেকে এবং প্রবেশ করেন পাকিস্তানের সামরিক পরিবারের অভ্যন্তরে। দিনের বেলা তিনি ছিলেন আদর্শ পুত্রবধূ, আর রাত নামলেই গোপনে ভারতে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক তথ্য পাঠাতেন।তাঁর পাঠানো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলির মধ্যে ছিল পাকিস্তানের সাবমেরিন PNS Ghazi-এর গোপন পরিকল্পনা। লক্ষ্য ছিল ভারতীয় বিমানবাহী রণতরী INS Vikrant-কে ধ্বংস করা। সেহমতের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতেই ভারতীয় নৌবাহিনী সতর্ক হয় এবং বিশাখাপত্তনম উপকূলের কাছে গাজীকে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়।এই গোটা মিশনে তাঁকে প্রতিনিয়ত মৃত্যুভয় নিয়ে বাঁচতে হয়েছে। নিজের পরিচয় গোপন রাখতে গিয়ে তাঁকে কঠিন এবং মানসিকভাবে বিধ্বংসী সিদ্ধান্তও নিতে হয়েছিল। কিন্তু দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে তিনি নিজের আবেগকে আড়াল করেছিলেন।মিশন শেষ হওয়ার পর তিনি নীরবে ভারতে ফিরে আসেন। জীবনের বাকি সময় প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকেছেন। তাঁর ছেলে পরবর্তীকালে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশের সেবা করেন।২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত Raazi সিনেমার মাধ্যমে সেহমতের গল্প নতুন প্রজন্মের সামনে আসে। তবে বাস্তবের এই বীরাঙ্গনা কখনও প্রচার বা পুরস্কারের জন্য কাজ করেননি। তাঁর বিশ্বাস ছিল— “দেশের জন্য করা কাজের সবচেয়ে বড় সম্মান দেশের পতাকা।”সেহমত খান আজও প্রমাণ করে দেন, যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু অস্ত্র নয়, সাহস, আত্মত্যাগ এবং দেশপ্রেমও ইতিহাস গড়ে।

Latest