নিজস্ব সংবাদদাতা : যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির আবহে স্বস্তির বার্তা মিলল বিশ্ব বাণিজ্যে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌপথ পুরোপুরি খুলে দিতে সম্মত হয়েছে ইরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ইরানি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে আগামী দুই সপ্তাহ সব জাহাজকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সুযোগ দেওয়া হবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় দ্রুত স্বাভাবিকতা ফিরতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছেন, অন্যদিকে ইরানের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল, এলএনজি এবং এলপিজির দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে ভারতের মতো জ্বালানি-নির্ভর দেশের জন্যও এটি বড় স্বস্তির খবর।ভারত রান্নার গ্যাসের চাহিদা মেটাতে প্রায় ৬০ শতাংশ জ্বালানি আমদানি করে, যার মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে। দেশের বার্ষিক এলপিজি ব্যবহার ৩৩ মিলিয়ন টনেরও বেশি, ফলে হরমুজ প্রণালী সচল থাকা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।উল্লেখ্য, সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা করেছিল। যদিও সেই সময় ভারতের কয়েকটি জ্বালানি ট্যাঙ্কার এই পথ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছিল, কিন্তু সংখ্যা খুবই কম ছিল। এর জেরে দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এখনও ভারতগামী বহু কার্গো জাহাজ হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে আটকে রয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ, এলএনজির ৫০ শতাংশের বেশি এবং এলপিজির ৯০ শতাংশ পশ্চিম এশিয়া থেকে এই প্রণালী দিয়েই আসে। ফলে এই নৌপথে বিঘ্ন ঘটলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে ভারতের জ্বালানি বাজারে।প্রণালী বন্ধ থাকার সময় সেখানে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯৫ শতাংশ কমে গিয়েছিল, যার ধাক্কা শুধু ভারত নয়, গোটা বিশ্ব অর্থনীতিতেই অনুভূত হয়েছিল। তবে নতুন যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের নৌপথ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে বিশ্ব অর্থনীতি ফের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা জোরালো হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির মাঝেই বড় স্বস্তি! হরমুজ প্রণালী খুলতে রাজি ইরান, কমতে পারে জ্বালানির দাম!