ইরানকে ট্রাম্পের আল্টিমেটাম, ‘আজ রাতেই মুছে যেতে পারে এক সভ্যতা’

ইরানকে ট্রাম্পের আল্টিমেটাম, ‘আজ রাতেই মুছে যেতে পারে এক সভ্যতা’

নিজস্ব সংবাদদাতা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও বিস্ফোরক মোড় নিল। ইরানের জন্য বেঁধে দেওয়া মঙ্গলবার রাত ৮টা (ইটি) ডেডলাইন ঘনিয়ে আসতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “আজ রাতেই একটি গোটা সভ্যতার মৃত্যু হতে পারে।” তবে একই সঙ্গে তিনি কূটনৈতিক সম্ভাবনার দরজাও খোলা রেখেছেন। তাঁর কথায়, “হয়তো বৈপ্লবিকভাবে অসাধারণ কিছু ঘটতেও পারে, কে জানে!”মার্কিন প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার দাবি, গত রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল হামলা চালিয়েছে। এই দ্বীপ থেকেই ইরানের সিংহভাগ তেল রপ্তানি হয়, ফলে এর কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। তবে সূত্রের দাবি, হামলায় তেল অবকাঠামোকে ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে এবং শুধুমাত্র সামরিক ঘাঁটি, বাঙ্কার ও রানওয়ের মতো স্থাপনাকেই নিশানা করা হয়েছে।এদিকে যুদ্ধ থামাতে শেষ মুহূর্তে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান এখনও সমঝোতার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে সাম্প্রতিক হামলার জেরে সেই প্রচেষ্টা বড় ধাক্কা খেয়েছে। একইসঙ্গে Qatar-এর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও যুদ্ধ “নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই” দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।অন্যদিকে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী (IDF) সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় নাগরিকদের ট্রেন ব্যবহার না করার সতর্কতা জারি করেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সূত্রে খবর, এর পরেই ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে রেল পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতির আরও অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, রাত ৮টার এই ডেডলাইন শুধু ইরান-আমেরিকা সংঘাত নয়, বিশ্ব তেলের বাজার, হরমুজ প্রণালী এবং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। এখন নজর সারা বিশ্বের—ডেডলাইনের আগে কূটনীতি জেতে, নাকি শুরু হয় আরও ভয়ংকর সামরিক অধ্যায়।