বৃষ্টি ছাড়াই আচমকা হড়পা বান উত্তর নেপালে, ভেসে গেল ঘরবাড়ি-বাজার; নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক!

বৃষ্টি ছাড়াই আচমকা হড়পা বান উত্তর নেপালে, ভেসে গেল ঘরবাড়ি-বাজার; নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক!

নিজস্ব সংবাদদাতা : উত্তর নেপালের রাসুয়া জেলায় বুধবার সকালে আচমকাই হড়পা বান নেমে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। চিন সীমান্তবর্তী এই জেলায় বানের প্রবল স্রোতে বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গিয়েছে ঘরবাড়ি, বাজার এবং একের পর এক গাড়ি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও। এখনও পর্যন্ত মোট ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ হিসাব সামনে আসেনি।স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে ওই এলাকায় বৃষ্টি হয়নি। বরং সকাল থেকেই রোদ ছিল। এর মধ্যেই সকাল ৯টা নাগাদ ভোতে কোশী নদীর জলস্তর আচমকা বেড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে নদীর জল ফুলে-ফেঁপে উঠে হড়পা বানের আকার নেয়।এই বিপর্যয়ের পর অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটকের খোঁজ মিলছে না বলে জানিয়েছে নেপাল পর্যটন পর্ষদ। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ১৪২ জন ভারতীয় রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয়। তাঁদের উদ্ধারে ইতিমধ্যেই অভিযান শুরু হয়েছে।

‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিখোঁজ পর্যটকদের অনেকেই কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন।হড়পা বানের প্রভাব পড়েছে তিব্বতেও। চিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নেপালের দিক থেকে নেমে আসা বানের জেরে তিব্বতের গাইয়ং প্রদেশের বেশ কিছু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানেও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।রাসুয়ার জেলাশাসক নগেন্দ্র পারিয়ার জানিয়েছেন, জেলার বেশ কিছু গ্রামীণ এলাকা বানের জলে ভেসে গিয়েছে। ব্যাপক সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তিনি। পরে নেপাল পুলিশ অন্তত আট জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।নেপালে প্রবেশের পর ভোতে কোশী নদী ত্রিশুলি নদীতে মিশেছে। ফলে ত্রিশুলি নদী তীরবর্তী এলাকাতেও বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান ও গোর্খা জেলার নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলা দফতর। প্রয়োজনে নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পর জরুরি বৈঠকে বসেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালাতে সেনা ও পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি চিকিৎসকদের দল, অ্যাম্বুল্যান্স এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য হেলিকপ্টারও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।হঠাৎ নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় এই বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, নিখোঁজ পর্যটকদের সন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানোই এখন নেপাল প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার।