মেদিনীপুর সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ডে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড! পুড়ে ছাই দুই বাস, ক্ষতিগ্রস্ত আরও একটি!
সেখ ওয়ারেশ আলী : ২৫শে অক্টোবর ,রবিবার গভীর রাতে মেদিনীপুর সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। রাতের অন্ধকারে আচমকাই আগুনের গ্রাসে চলে যায় পরপর তিনটি বাস। এর মধ্যে দুটি বাস সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায় এবং অন্য একটি বাস আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মুহূর্তের মধ্যে বাসস্ট্যান্ড চত্বর কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বাসকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাত প্রায় ১২টা নাগাদ বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে আচমকাই আগুন লাগে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে পাশের আরও দুটি বাসে। আগুনের তীব্রতা ক্রমশ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আগুনের শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়া দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাসকর্মীরা। দ্রুত খবর দেওয়া হয় দমকল বিভাগ ও কোতোয়ালি থানায়।

খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের দুটি ইঞ্জিন এবং কোতোয়ালি থানার পুলিশ। আগুন যাতে আশপাশে থাকা অন্য বাসগুলিতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য দ্রুত বাসস্ট্যান্ড চত্বর থেকে অন্যান্য বাস সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। দমকলকর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন তাঁরা।

তবে ততক্ষণে আগুনের তীব্রতায় দুটি বাস সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তৃতীয় বাসটিও আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুন আরও ছড়িয়ে পড়লে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দ্রুত দমকল ও পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

দমকল আধিকারিকদের প্রাথমিক অনুমান, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। কীভাবে আগুন লাগল, এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না এবং এই ঘটনায় মোট কত টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মেদিনীপুর সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ কেন্দ্রে পরপর তিনটি বাসে আগুন লাগার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বাসস্ট্যান্ডে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং পার্কিং ব্যবস্থার নিরাপত্তা খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন অনেকে।