Skip to content

ইডেনের সবুজ গালিচায় নতুন রূপকথা: সঞ্জু স্যামসনের ৯৭-এ সেমিফাইনালে ভারত

নিজস্ব সংবাদদাতা : ক্রিকেটের নন্দনকানন ইডেন গার্ডেন্স বহু ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী। এখানেই একদিন কব্জির মোচড়ে রূপকথা লিখেছিলেন Mohammad Azharuddin, অভিষেক টেস্টেই করেছিলেন সেঞ্চুরি। আবার এই মাঠেই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ২৬৪ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেছিলেন Rohit Sharma—যা আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের স্মৃতিতে অমলিন।

১লা মার্চ, রবিবার রাতে সেই ঐতিহ্যের মাটিতে জন্ম নিল আরেকটি অধ্যায়। নাম একটাই—Sanju Samson। অপরাজিত ৯৭ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংস খেলেই তিনি ভারতকে পৌঁছে দিলেন সেমিফাইনালে। ১৯৫ রানের কঠিন লক্ষ্য, অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পতন, চাপ বাড়ছিল প্রতি ওভারে—কিন্তু সঞ্জু শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ক্রিজ আঁকড়ে থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাত থেকে।

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ১৮০-র বেশি রান তাড়া করে ভারত আগে জিতেছে খুব কমই, আর সেই ইতিহাসে প্রায়শই একটাই নাম জুড়ে থাকে—Virat Kohli, ‘চেজমাস্টার’ হিসেবে যাঁর খ্যাতি বিশ্বজোড়া। Melbourne Cricket Ground-এ তাঁর অবিশ্বাস্য ইনিংস আজও আলোচনায়। কিন্তু ইডেনে সঞ্জুর এই লড়াকু ৯৭ কি কম মহাকাব্যিক? চলতি ICC Men's T20 World Cup-এ সঞ্জুর যাত্রা মোটেই মসৃণ ছিল না। কখনও দল থেকে বাদ, কখনও সুযোগ পেয়েও রানহীন। সমালোচনা ছিল তুঙ্গে। ভিতরে ভিতরে ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন। তবু হার মানেননি। সেই তিনিই এদিন দেশের নায়ক।ম্যাচ শেষে ঘামে ভেজা জার্সি গায়ে সঞ্জুর মুখে ছিল এক অনাবিল হাসি—স্বস্তির, জয়ের, আত্মপ্রত্যয়ের। বুকের উপর চেপে থাকা পাথর সরিয়ে তিনি দেশকে পৌঁছে দিলেন শেষ চারের মঞ্চে।

ম্যাচ শেষে সঞ্জু বলেন, “এই ইনিংস আমার কাছে একটা পৃথিবী। ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখতাম দেশের জার্সিতে বড় মঞ্চে এমন কিছু করার। এই দিনের জন্য অনেকদিন অপেক্ষা করেছি।”ইডেন আবারও এক নায়কের জন্ম দেখল। আর প্রশ্নটা এখন একটাই—এই ইনিংসের পরেও কি সঞ্জু স্যামসনকে ‘চেজমাস্টার’ বলা হবে না?

Latest