নিজস্ব সংবাদদাতা : থাইল্যান্ডের ফিতসানুলো প্রদেশে ঘটল অবিশ্বাস্য এক ঘটনা—শেষকৃত্যের মাঝে হঠাৎ কফিনের ভেতর থেকে টোকার শব্দ, তারপর কান্না! উপস্থিত মানুষজন স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। যাঁকে মৃত ধরে পরিবার শোকের প্রস্তুতি নিয়েছিল, তিনিই কফিনের ভেতর জীবিত অবস্থায় নড়ে উঠলেন। গত দু’বছর ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন ৬৫ বছর বয়সি Chonthirot। পরিবার জানায়, ২৩ নভেম্বর সকালে তাঁকে নড়াচড়াহীন অবস্থায় পাওয়া যায়। কোনও সাড়া না পেয়ে সকলেই ধরে নেন—তিনি আর নেই। শোকাবহ পরিবেশে শুরু হয় শেষকৃত্যের প্রস্তুতি। গ্রামের বাড়ি থেকে প্রায় ২২৫ মাইল দূরে ব্যাঙ্ককের কাছে একটি মন্দিরে বিনামূল্যের শেষকৃত্য সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেন পরিবারের লোকজন।চলছিল সব ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান। সাদা রঙের কফিনে শোয়ানো হয়েছিল বৃদ্ধাকে। এমন সময়ই ঘটে চাঞ্চল্য। কফিনটি মূল হলঘরে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল, ঠিক তখনই ভেতর থেকে শোনা যায় হালকা টোকার শব্দ এবং কান্না। আতঙ্কিত সবাই দ্রুত কফিনের ঢাকনা খুলে দেখেন—Chonthirot থরথর করে কাঁপছেন এবং মুখে বসে থাকা মাছি তাড়ানোর চেষ্টা করছেন! উপস্থিত মানুষজন আতঙ্কে, আবার কেউ কেউ বিস্ময়ে নিস্তব্ধ। ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে।
দেখে অনেকেই চমকে উঠছেন, অনেকেই ভাবছেন—মৃত ঘোষণা করা হলো কীভাবে? বৃদ্ধার ভাই Mongkol জানান, “আমরা ইতিমধ্যেই মৃত্যুর নথিপত্র তৈরি করে ফেলেছিলাম। শেষ মুহূর্তে দিদিকে জীবিত দেখে আমরা বাকরুদ্ধ হয়ে যাই—আশ্চর্য আর স্বস্তি একসঙ্গেই ভর করে।” মন্দির কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে থাকা Thammanun বলেন, কফিন তোলার সময় প্রথমে তিনি আঙুলের টোকার শব্দ শুনতে পান, এরপর কান্না। তখনই সন্দেহ জাগে তাঁর মনে চিকিৎসকদের মতে, এখানে ‘অলৌকিক’ কিছু নয়। তাঁদের প্রাথমিক ধারণা—
বৃদ্ধার রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে গিয়েছিল, যা তাঁকে অচেতন ও প্রাণহীন মনে হয়েছিল। যথাযথ পরীক্ষা না করেই পরিবার তাঁকে মৃত ধরে নেয়। শ্বাস-প্রশ্বাস যদিও খুব ক্ষীণ ছিল, পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তাই আবার চেতনা ফিরে পায় শরীর। এই অভাবনীয় ঘটনায় আনন্দে ভাসছে পরিবার। তবে ভুল নির্ণয়ের কারণে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা ভেবে এখনও শিহরিত অনেকেই।