নিজস্ব সংবাদদাতা : ৩০ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার পালিত হবে Narasimha Jayanti—ভগবান বিষ্ণুর চতুর্থ অবতার নৃসিংহের আবির্ভাব তিথি। এই দিনটি স্মরণ করিয়ে দেয় এক অনন্য পুরাণকথা, যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় এবং ভক্তির শক্তি সবকিছুকে ছাপিয়ে যায়। হিরণ্যকশিপুর অহংকার ও বরপ্রাপ্তি : Vishnu-এর দ্বাররক্ষী জয়-বিজয়ের অভিশাপের ফলেই অসুরবংশে জন্ম নেন হিরণ্যাক্ষ ও হিরণ্যকশিপু। ভ্রাতা হিরণ্যাক্ষকে বিষ্ণুর বরাহ অবতার বধ করলে প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে ওঠেন হিরণ্যকশিপু। অমরত্বের আশায় কঠোর তপস্যা করে তিনি Brahma-র কাছ থেকে একের পর এক দুর্লভ বর লাভ করেন—জলে, স্থলে, আকাশে, দিন-রাতে, ঘরের ভিতরে-বাইরে, অস্ত্র দ্বারা বা কোনো জীব দ্বারা তাঁর মৃত্যু হবে না।

প্রহ্লাদ: ভক্তির অদম্য শক্তি : হিরণ্যকশিপুর পুত্র Prahlada শৈশব থেকেই ছিলেন বিষ্ণুভক্ত। পিতার বিরোধিতা সত্ত্বেও তিনি ভক্তি থেকে বিচ্যুত হননি। বিষ প্রয়োগ, অগ্নিপরীক্ষা, হাতির পায়ের নিচে ফেলা—নানা উপায়ে হত্যার চেষ্টা হলেও প্রতিবারই তিনি রক্ষা পান ভগবানের কৃপায়।
স্তম্ভ ভেদ করে নৃসিংহের আবির্ভাব : অবশেষে একদিন ক্রুদ্ধ হিরণ্যকশিপু প্রহ্লাদকে প্রশ্ন করেন—“তোর ঈশ্বর কোথায়?” প্রহ্লাদ উত্তর দেন—“তিনি সর্বত্র।” এই কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে স্তম্ভে আঘাত করতেই সেখান থেকে আবির্ভূত হন Narasimha—অর্ধেক মানুষ, অর্ধেক সিংহ রূপে।
বর ভঙ্গ করে অসুরবধ : নৃসিংহ অবতার সন্ধ্যাকালে (না দিন, না রাত), প্রাসাদের দোরগোড়ায় (না ভিতরে, না বাইরে), নিজের উরুর ওপর বসিয়ে (না মাটি, না আকাশে) নখর দিয়ে (না অস্ত্র) হিরণ্যকশিপুকে বধ করেন। এভাবেই ব্রহ্মার দেওয়া বর অক্ষুণ্ণ রেখেই অসুরবিনাশ সম্পন্ন হয়।
প্রহ্লাদের জয় ও ভক্তির মাহাত্ম্য : হিরণ্যকশিপুর মৃত্যুর পরও নৃসিংহের ক্রোধ প্রশমিত হচ্ছিল না। তখন প্রহ্লাদের প্রার্থনাতেই তিনি শান্ত হন। ভগবান তাঁকে আশীর্বাদ করেন এবং রাজ্যভার অর্পণ করেন। প্রহ্লাদ নিজের পিতার মুক্তির জন্যও প্রার্থনা করেন—যা তাঁর ভক্তির মহত্ত্বকে আরও উজ্জ্বল করে।
শিক্ষণীয় বার্তা : এই আখ্যান কেবল পুরাণকথা নয়—এটি ভক্তি, ন্যায় এবং বিশ্বাসের চিরন্তন প্রতীক। বলা হয়, এই কাহিনী শ্রবণ বা পাঠ করলে পাপক্ষয় হয় এবং জীবনে শুভ শক্তির আবির্ভাব ঘটে। নৃসিংহ জয়ন্তীর এই পবিত্র তিথিতে ভক্তরা উপবাস, পূজা ও কীর্তনের মাধ্যমে ভগবানের আরাধনা করেন—অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয়ের প্রার্থনায়।