বন্যার ভয়াল থাবায় মৃত্যু মিছিল অব্যাহত, মর্গে জায়গা না থাকায় কাঠমান্ডুতে গণকবর!
নিজস্ব সংবাদদাতা : নেপালে ভয়াবহ হিমবাহজনিত বন্যার পর প্রায় এক সপ্তাহ কেটে গেলেও এখনও শেষ হয়নি মৃত্যুমিছিল। উদ্ধারকাজ চলাকালীন প্রতিনিয়ত মিলছে নতুন নতুন মৃতদেহ। স্বজন হারানোর শোকে এখনও কান্নায় ভেঙে পড়ছেন ত্রিশুলী-সহ ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক এলাকার বাসিন্দারা।

পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, মৃতদেহ রাখার জায়গা সংকুলান করতে হিমশিম খাচ্ছে মর্গ কর্তৃপক্ষ। মর্গে আর জায়গা না থাকায় এবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উপকণ্ঠেও অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহ গণকবর দেওয়ার ব্যবস্থা শুরু হয়েছে।

হিমালয়ের বিধ্বংসী হিমবাহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১,০৫০ ছাড়িয়ে গেছে এবং চীনা ও নেপালি উদ্ধারকারী দলগুলো জীবিতদের সন্ধান অব্যাহত রেখেছে।
১ সেপ্টেম্বর কাঠমান্ডুর গোকর্ণ বন সংরক্ষণাগারে নিরাপত্তাকর্মীদের পিপিই পরে মৃতদেহ বহন করতে দেখা যায়।

প্রবল বৃষ্টি ও কাদামাখা জঙ্গলপথ পেরিয়ে কর্মীরা কাঁধে করে দেহগুলি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যান। পরে সেখানে একাধিক মৃতদেহ দাফন করা হচ্ছে।তবে ভবিষ্যতে মৃতদেহ শনাক্ত করার সুবিধার কথা মাথায় রেখে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কবর আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং মৃতদেহের সঙ্গে পরিচিতি সংক্রান্ত ট্যাগও সংযুক্ত রাখা হচ্ছে।

পরবর্তীতে কোনও মৃতদেহের পরিচয় জানা গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী কবর থেকে দেহ তুলে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।হিমালয় অঞ্চলে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ হিমবাহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই এক হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও নিখোঁজ বহু মানুষের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে চীন ও নেপালের উদ্ধারকারী দল।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, কয়েকজন মানুষ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গের ভিতরেও আটকে থাকতে পারেন।প্রকৃতির এই ভয়াল তাণ্ডবের এক সপ্তাহ পরও নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় অব্যাহত উদ্ধার অভিযান। ধ্বংসস্তূপের নীচে কিংবা বন্যার জলে ভেসে যাওয়া এলাকাগুলিতে এখনও চলছে নিখোঁজদের সন্ধান।