শেষ বাঁশি বেজে গেল! ব্রাজিলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না নেইমারকে

শেষ বাঁশি বেজে গেল! ব্রাজিলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না নেইমারকে
নিজস্ব সংবাদদাতা :ব্রাজিল ফুটবলের এক স্বর্ণযুগের অবসান।দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের ইতি টেনে ব্রাজিল জাতীয় দলের জার্সিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানালেন তারকা ফুটবলার নেইমার জুনিয়র। গতকালই তাঁর ক্লাব সান্তোস ৪-২ গোলে হারিয়েছে ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালকে। সেই ম্যাচের পরেই সংবাদমাধ্যমকে নেইমার জানিয়েছেন, তিনি আর ব্রাজিলের জার্সিতে খেলতে ইচ্ছুক নন। আবেগঘন বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, দেশের হয়ে খেলতে গিয়ে তিনি নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন। এবার নতুন প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সময় এসেছে। বিদায়বার্তায় নেইমার বলেন ,”আমার মনে হয়, আমার সময় শেষ। ২০৩০ বিশ্বকাপ অবধি আমি আর থাকছি না। আমি আমার দেশের হয়ে অনেক লড়েছি। অনেক ঘাম-রক্ত ত্যাগ করেছি। দেশের জার্সিতে অনেক ইতিহাস গড়েছি। আমি আর জাতীয় দলের হয়ে খেলতে ইচ্ছুক নই। এখন আমার সব ফোকাস একমাত্র স্যান্টোসকে নিয়েই।”২০১০ সালে ব্রাজিলের হয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর টানা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সেলেসাওদের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসা ছিলেন নেইমার। অসাধারণ ড্রিবলিং, দুরন্ত গতি, নিখুঁত ফিনিশিং এবং সৃজনশীল ফুটবলে তিনি বিশ্ব ফুটবলে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন। রোনাল্ডিনহো, কাকার পর ব্রাজিল ফুটবলের অন্যতম বড় মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
ব্রাজিলের হয়ে শতাধিক ম্যাচ খেলে অসংখ্য গোল ও অ্যাসিস্ট করেছেন নেইমার। দেশের সর্বকালের অন্যতম সফল ফুটবলার হিসেবে তিনি নিজের নাম ইতিহাসে লিখে রেখেছেন। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হলেও কনফেডারেশনস কাপ, অলিম্পিকে স্বর্ণপদক এবং একাধিক স্মরণীয় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।নেইমারের অবসরের ঘোষণার পর সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সতীর্থ, প্রাক্তন ফুটবলার এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অসংখ্য সমর্থক। অনেকেই মনে করছেন, তাঁর বিদায়ের মাধ্যমে ব্রাজিল ফুটবলের একটি স্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।এখন প্রশ্ন একটাই—নেইমারের শূন্যস্থান পূরণ করবেন কে? সেই উত্তর খুঁজতে শুরু করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে নেইমারের জাদুকরী ড্রিবলিং, চোখধাঁধানো গোল এবং হলুদ-সবুজ জার্সিতে তাঁর অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।