Skip to content

লোকসভা স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বাড়ল জল্পনা, NCPI-তে যোগ দিচ্ছেন বিদ্রোহীরা?

অভিজিৎ সাহা : পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের সাংসদদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের প্রায় ২০ জন সাংসদ চার বছরের পুরনো রাজনৈতিক দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-তে যোগ দিয়ে NDA জোটের শরিক হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।সূত্রের খবর, রবিবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন কাকলি ঘোষদস্তিদার, শতাব্দী রায়, দীপক অধিকারী (দেব), সায়নী ঘোষ, জুন মালিয়া, ইউসুফ পাঠান-সহ একাধিক সাংসদ। বৈঠকের পর তাঁরা লোকসভার স্পিকারের বাসভবনেও যান বলে জানা গিয়েছে।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দলত্যাগ বিরোধী আইনের সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে এবং সাংসদ পদ অক্ষুণ্ণ রাখতে বিদ্রোহী সাংসদরা একটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথ বেছে নিতে পারেন। সেই কারণেই NCPI-র নাম সামনে এসেছে বলে জল্পনা।

কী এই NCPI?

ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI) একটি তুলনামূলকভাবে নতুন রাজনৈতিক দল। ২০২৩ সালে ত্রিপুরায় দলটির নিবন্ধন হয়। বর্তমানে ত্রিপুরা, অসম এবং পশ্চিমবঙ্গের কিছু এলাকায় সীমিত সাংগঠনিক কার্যকলাপ রয়েছে তাদের। জাতীয় রাজনীতিতে দলটির প্রভাব এখনও সীমিত হলেও NDA-র সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক রয়েছে বলে রাজনৈতিক সূত্রের দাবি।সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংগঠন বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দলটি। তবে নির্বাচনী ক্ষেত্রে এখনও বড় কোনও সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।

কেন NCPI-তে যোগদানের জল্পনা?

রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, বিদ্রোহী সাংসদদের জন্য পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া নিয়ে আইনি অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় একটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের ব্যানারে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসও দলের কোনও বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীকে আলাদা স্বীকৃতি না দেওয়ার আবেদন স্পিকারের কাছে জানিয়েছে বলে খবর।এদিকে দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কাকলি ঘোষদস্তিদার জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করার বিষয়ে তাঁদের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে।

তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বিদ্রোহী সাংসদদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ঘোষণা করা হয়নি। ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই জল্পনা বাস্তবে পরিণত হয়, তবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে এবং রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতে পারে।

Latest