Skip to content

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর, তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য!

নিজস্ব সংবাদদাতা : বাংলা টেলিভিশন জগতের পরিচিত মুখ রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর অকালমৃত্যু ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সোমবার তমলুক হাসপাতালে তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, জলে ডুবে যাওয়ার ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

May be an image of one or more people, people smiling, car and road

চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, দীর্ঘ সময় জলে ডুবে থাকার কারণে তাঁর ফুসফুসে অতিরিক্ত জল ও বালি জমে যায়। এমনকি ফুসফুস ফুলে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল বলেও জানা গেছে। এছাড়াও খাদ্যনালির ভিতরেও বালি ও নোনা জল প্রবেশ করেছিল। তবে তাঁর শরীরে অ্যালকোহলের উপস্থিতি ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

May be an image of one or more people

এ বিষয়ে ভিসেরা পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।ঘটনার পরদিনই হাসপাতালে পৌঁছন পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা। তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত অভিনেতার পরিবারের তরফে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে দিঘা থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তে ওডিশা পুলিশের সঙ্গেও সমন্বয় রাখা হচ্ছে।

🔍 তদন্তে উঠে আসছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

১. মামলা ও তদন্ত: দিঘা থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাতে এলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে।

২. শুটিং ফুটেজ পুলিশের হাতে: পুলিশের হাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ফুটেজ এসেছে, যেখানে শেষবার অভিনেতাকে জলে দেখা গিয়েছে। তবে এখনও তদন্ত প্রাথমিক স্তরে থাকায় বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

৩. নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্ন: ফুটেজে লাইফ সেভিংয়ের কোনও সুস্পষ্ট ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। এই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং তা বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

৪. উদ্ধার করার সময় অবস্থার ধোঁয়াশা: উদ্ধারের সময় তিনি জীবিত ছিলেন কি না, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত নয় পুলিশ।

পরিচালকের বয়ান অনুযায়ী, শুটিং চলাকালীন সহ-অভিনেত্রী শ্বেতার সঙ্গে জলকেলিতে মেতে উঠেছিলেন রাহুল। ধীরে ধীরে তাঁরা সমুদ্রের গভীর দিকে এগোতে থাকেন। হঠাৎ করেই ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন অভিনেতা। ইউনিটের সদস্যরা বারবার সতর্ক করলেও মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরিচালক জানান, “রাহুলদা ধীরে ধীরে গলা পর্যন্ত জলে ঢুকে পড়েন এবং হাবুডুবু খেতে থাকেন। আমরা ছুটে গিয়েও তাঁকে বাঁচাতে পারিনি। খুব দ্রুত তলিয়ে যেতে থাকেন তিনি।” পরে আশেপাশের নৌকা থেকে দড়ি ফেলে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। তখনও তাঁর শরীরে প্রাণের স্পন্দন ছিল বলে দাবি ইউনিটের সদস্যদের। দ্রুত দিঘা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ টলিপাড়া। একইসঙ্গে শুটিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের দিকেই এখন তাকিয়ে সকলে।

Latest