নিজস্ব সংবাদদাতা : ইরানি কর্তৃপক্ষ অনমনীয় অবস্থানে অনড় থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে বড় ধরনের হামলা আরও জোরদার করেছে। সাম্প্রতিক এই হামলায় তেহরান, ইসফাহান এবং ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সামরিক কমান্ডারদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আশঙ্কা মাথায় রেখে তারা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।মঙ্গলবার মধ্যরাতের আগে ও পরে রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বিমান হামলা চালানো হয়। এর জেরে আবারও একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

ইরানের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বোমার স্প্লিন্টার এবং প্রবল শকওয়েভের আঘাতে একটি প্রধান বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যদিও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি মেরামত করা সম্ভব হয়েছে।রাজধানীর পাশের শহর কারাজ ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলেও হামলার খবর মিলেছে। একইসঙ্গে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নতুন একটি আকাশচিত্র প্রকাশ করে তেহরানের পশ্চিমের ভারদাভার্দ এলাকা এড়িয়ে চলার সতর্কতা জারি করেছে, কারণ ওই এলাকায় আরও হামলার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্রের খবর, ওই অঞ্চলে একাধিক ওষুধ উৎপাদনকারী সংস্থা রয়েছে।সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ‘তোফিগ দারু’ নামের একটি শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থায়। একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইল আঘাতে সংস্থাটি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান তার প্রয়োজনীয় ওষুধের ৯০ শতাংশেরও বেশি এখন দেশেই উৎপাদন করে, আর এই প্রতিষ্ঠানটি ক্যানসার ও মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান তৈরিতে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করে।অন্যদিকে, মধ্য ইরানের ইসফাহানেও রাতভর আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে শহরের সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় বিপুল সংখ্যক ভারী ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিস্ফোরণের পর একাধিক সেকেন্ডারি ব্লাস্টে রাতের আকাশ আলোকিত হয়ে ওঠে, আর তার তীব্র শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো শহর। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটিকে অন্যতম বড় বিস্ফোরণ বলেই মনে করা হচ্ছে।মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন শুধু সামরিক নয়, জ্বালানি, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং সাধারণ নাগরিক জীবনের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।