মন্দারমণি ও বগুড়ান-জলপাইয়ে ‘স্বচ্ছ সাগর, সুরক্ষিত সাগর’ অভিযান!
নিজস্ব সংবাদদাতা : সৈকতে জমে থাকা সামুদ্রিক বর্জ্য পরিষ্কার এবং উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের মন্দারমণি ও বগুড়ান-জলপাই সৈকতে অনুষ্ঠিত হল ‘স্বচ্ছ সাগর, সুরক্ষিত সাগর’ অভিযান। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের Coastal Observatory and Outreach Centre এবং Centre for Environmental Studies-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে তিনশোরও বেশি মানুষ অংশ নেন।
মন্দারমণির দক্ষিণ পুরুষোত্তমপুর এবং বগুড়ান-জলপাই সৈকতে একইসঙ্গে চলে সৈকত পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা কর্মসূচি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধক ড. জয়ন্ত কিশোর নন্দী, রামনগরের বিধায়ক ড. চন্দ্রশেখর মণ্ডল এবং মুগবেড়িয়া গঙ্গাধর মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. স্বপন কুমার মিশ্র।

কেন্দ্রীয় স্তর থেকে উপস্থিত ছিলেন ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব শ্রীনিবাস রাও গাঙ্গি রেড্ডি এবং INCOIS-এর বিজ্ঞানী ও গ্রুপ লিডার ই. পট্টাভি রামা রাও।ভারত সরকারের ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রকের অধীনস্থ Indian National Centre for Ocean Information Services (INCOIS)-এর সমন্বয় ও অর্থানুকূল্যে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিদ্যা অধ্যয়ন কেন্দ্রের অধিকর্তা ও Coastal Observatory and Outreach Centre-এর সমন্বয়ক ড. যতিশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের Ocean Geomatics with AI বিভাগের ড. সৌরভ মাইতি এবং Remote Sensing ও GIS বিভাগের অধ্যাপক ড. নিরুপম আচার্য ও ড. অমৃত কামিলাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সৈকত পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রী, স্থানীয় গ্রামবাসী, কাজলা জনকল্যাণ সমিতির সদস্য এবং ঐতিহ্যবাহী মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। তাঁরা সৈকত থেকে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক ও অন্যান্য সামুদ্রিক বর্জ্য সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি সমুদ্র দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব এবং উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সচেতনতা প্রচার করা হয়।

কর্মসূচির ব্যবস্থাপনায় ছিলেন INCOIS-MoES অনুমোদিত প্রকল্পের গবেষক সৌম্যকান্তি পণ্ডা, মুগবেড়িয়া গঙ্গাধর মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক স্নেহাশিস মণ্ডল এবং গবেষক অভীক সাহা।

এদিনের কর্মসূচিতে সমুদ্র ও উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষায় জনসাধারণের সক্রিয় অংশগ্রহণের উপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দীঘায় অবস্থিত উপকূলীয় গবেষণা কেন্দ্রটির পরিকাঠামো ও গবেষণামূলক কাজ আরও সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।