পাহাড়ে প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটাতে জিটিএ-তে প্রশাসক, উন্নয়নে ২৫০ কোটি!
অভিজিৎ সাহা : গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)-এর চিফ এগজিকিউটিভ পদ থেকে অনীত থাপার ইস্তফার পর পাহাড়ে তৈরি হওয়া প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটাতে বড় পদক্ষেপ নিল নবান্ন। জিটিএ-র প্রশাসক হিসেবে আইএএস আধিকারিক স্মৃতিরঞ্জন মোহান্তিকে নিয়োগ করা হয়েছে।মঙ্গলবার খারাপ আবহাওয়ার জেরে কালিম্পংয়ে পৌঁছতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী। এরপর শিলিগুড়ির উত্তরকন্যা থেকে ভার্চুয়ালি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে জিটিএ-তে প্রশাসক নিয়োগের কথা ঘোষণা করেন তিনি।পাহাড়ের বিপর্যয় মোকাবিলা এবং সার্বিক উন্নয়নের জন্য ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, ২০২৫ সালে পাহাড়ে ধসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭৩টি পরিবারকে ৩ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানান তিনি।

চা শ্রমিকদের পুজো বোনাস ২০ শতাংশ : পুজোর আগে চা শ্রমিকদের জন্য বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ বছর তাঁদের ২০ শতাংশ পুজো বোনাস দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা চা-বাগানগুলি পুনরায় খোলার জন্য সরকার উদ্যোগী হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।কালিম্পংয়ের যোগ্য মহিলারা যাতে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকেও নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই কালিম্পংয়ের প্রায় ১৫ হাজার মহিলা এই সুবিধা পেয়েছেন। বাকি যোগ্য মহিলারাও যাতে এই প্রকল্পের সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করা হবে।এছাড়াও কালিম্পংবাসীর জন্য আয়ুষ্মান ভারত কার্ড দেওয়ার উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। যারা আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের আওতায় আসবেন না, তাঁদের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

জিটিএ-তে দুর্নীতির অভিযোগে কড়া বার্তা : পাহাড়ের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধান করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে জিটিএ-তে কথিত ‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি’ নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।শিক্ষক নিয়োগ, পানীয় জল-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অভিযোগের সত্যতা মিললে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের থেকে শুরু করে গ্রেফতার পর্যন্ত করা হবে।রাজ্যে পালাবদলের পর জিটিএ-র বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই চিফ এগজিকিউটিভ পদ থেকে অনীত থাপার ইস্তফা পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দেয়। এবার জিটিএ-তে প্রশাসক নিয়োগ এবং ২৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দকে ঘিরে পাহাড়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।