অভিজিৎ সাহা : দীর্ঘদিনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চালু হল শিলিগুড়ির বর্ধমান রোডের নবনির্মিত ওভারব্রিজ তথা রেল উড়ালপুল। এয়ার ভিউ মোড় ও ঝঙ্কার মোড়ের সংযোগস্থলে নির্মিত এই উড়ালপুলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের নতুন অধ্যায়ের সূচনার দাবি করে উত্তরবঙ্গের ভৌগোলিক, কৌশলগত ও প্রশাসনিক গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের জন্য একাধিক নতুন প্রকল্প ও পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, অর্থ ও পরিবহণ দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক রাষ্ট্রমন্ত্রী বিশাল লামা-সহ স্থানীয় বিধায়ক এবং জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা।শিলিগুড়িকে ‘উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার’ এবং ‘চিকেনস নেক’ সংলগ্ন জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, উত্তরবঙ্গকে বঞ্চিত রাখার পুরনো নীতি থেকে সরে এসে উন্নয়নের দিকে বিশেষ জোর দিয়েছে নতুন সরকার।

উত্তরবঙ্গ উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়ল :
মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত আট মাসে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের বাজেট দ্বিগুণ করে ২,২০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি জিটিএ-র উন্নয়ন তহবিলও দ্বিগুণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।প্রশাসনিক গুরুত্বের কথাও তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ইতিহাসে এই প্রথম উত্তরবঙ্গ থেকে ১০ জনকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়েছে।সাধারণ মানুষকে ছোটখাটো প্রশাসনিক কাজের জন্য কলকাতায় ছুটতে না হয়, সেই লক্ষ্যে নবান্নের অধিকাংশ দফতরের কাজ উত্তরবঙ্গের রাজ্য সচিবালয় ‘উত্তরকন্যা’য় স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রেল, বিমানবন্দর ও সীমান্ত সুরক্ষায় জমি হস্তান্তর :
কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে জমি জটিলতা কাটিয়ে উন্নয়নের গতি বাড়াতে রাজ্য সরকার উদ্যোগী হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোর স্বার্থে জমি সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত মেটানোই সরকারের অগ্রাধিকার।হিলি থেকে কোচবিহার পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণের জন্য জমি দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে বিএসএফকেও প্রয়োজন অনুযায়ী জমি হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।এছাড়াও হাসিমারা বিমানবন্দরকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে জমি বরাদ্দ এবং বাগডোগরা বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের জন্য অতিরিক্ত জমি দেওয়ার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরবঙ্গের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ইতিমধ্যেই জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রাজ্যে চলছে ৫০০ উড়ালপুল নির্মাণের কাজ :
পূর্ত দফতর ও রেলের যৌথ প্রযুক্তিতে নির্মিত বর্ধমান রোডের এই উড়ালপুলটি হিলকার্ট রোড, ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং এশিয়ান হাইওয়েকে সংযুক্ত করবে।মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যজুড়ে রেল ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যৌথ উদ্যোগে ৫০০টি উড়ালপুল নির্মাণের কাজ চলছে। তাঁর দাবি, আগে যৌথ প্রকল্পে রাজ্যকে ৫০ শতাংশ অর্থ বহন করতে হলেও বর্তমানে কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রক ১০০ শতাংশ অর্থায়নে উড়ালপুল নির্মাণে সম্মত হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর ‘বিকাশ ভি, বিরাসাত ভি’ ভাবনাকে সামনে রেখে ঐতিহ্য ও উন্নয়নকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও করেন মুখ্যমন্ত্রী।