নিজস্ব সংবাদদাতা : বৃষ্টি কাটতেই হালকা শিরশিরে উত্তুরে হাওয়ার স্পর্শ। ছ’দিন পর ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নামল কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস—যা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় দু’ডিগ্রি কম। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি আবার শীতের আমেজ ফিরছে? না, এমন সম্ভাবনা একেবারেই নেই বলেই জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া অফিস। আবহবিদদের স্পষ্ট বক্তব্য, এই পারদ পতন সাময়িক। আগামী দু’দিনের মধ্যেই তাপমাত্রা ফের ঊর্ধ্বমুখী হবে। এক ঝটকায় চার ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে তাপমাত্রা। অর্থাৎ, কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রির আশপাশে পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের বেলায় গরমও বাড়বে চোখে পড়ার মতো। শুধু তাই নয়, দোলের সময় শহরের তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছতে পারে বলেও পূর্বাভাস। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ওঠানামা করছে ৩৮ থেকে ৯১ শতাংশের মধ্যে, ফলে ভোর-সন্ধ্যায় শিরশিরে ভাব থাকলেও দিনের গরমে অস্বস্তি বাড়তে পারে।
আবহাওয়ার এই হঠাৎ বদলের নেপথ্যে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ, যা ঘূর্ণাবর্তে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি ২ মার্চ সোমবার একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝাও প্রবেশ করতে চলেছে উত্তর-পশ্চিম ভারতে, যার প্রভাব পরোক্ষে রাজ্যের আবহাওয়ায় পড়বে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা আরও বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমে দোলের সময় পারদ ৩৫ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে। ফলে গরমের দাপট শুরু হতে চলেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উত্তরবঙ্গের পার্বত্য এলাকাতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত। দার্জিলিং ও কালিম্পঙে সকালে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়ার উন্নতি হবে। আগামীকাল থেকে কুয়াশার সম্ভাবনাও কমছে। পরবর্তী সাতদিন রাজ্যে শুষ্ক আবহাওয়া থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, রাতের হালকা ঠান্ডা থাকলেও স্থায়ী শীতের প্রত্যাবর্তন নয়—বরং দোলের আগেই গরমের প্রস্তুতি নিতে হবে রাজ্যবাসীকে।