নিজস্ব সংবাদদাতা: ইসলামাবাদে আমেরিকা-ইরান শান্তি বৈঠকের প্রাক্কালে ফের হরমুজ় প্রণালী ইস্যুতে কড়া অবস্থান নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। শুক্রবার মেরিল্যান্ডে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের সামনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “ইরান সহযোগিতা করুক বা না করুক, খুব শীঘ্রই হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়া হবে।” তাঁর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।ট্রাম্পের দাবি, এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ খুলে দিতে আমেরিকার পাশে অন্য কয়েকটি দেশও থাকবে। যদিও কীভাবে সেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি। শুধু বলেছেন, “কাজটা সহজ নয়, তবে খুব দ্রুতই ওই পথ আবার সচল হবে।” বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালীর উপর নির্ভরশীল হওয়ায় তাঁর এই বক্তব্যের প্রভাব সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারেও পড়তে পারে।অন্যদিকে, তেহরান ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে যে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছালেও হরমুজ় দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের উপর শুল্ক বা টোল আরোপ করা হতে পারে। এই সম্ভাবনাকে ট্রাম্প সরাসরি “আন্তর্জাতিক জলপথে তোলাবাজি” বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ইরানকে কোনওভাবেই ওই রুটে টোল আদায়ের সুযোগ দেওয়া হবে না।শান্তি বৈঠকে ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকারও তিনি পরিষ্কার করেছেন—ইরানের হাতে কোনওভাবেই পরমাণু অস্ত্র পৌঁছতে দেওয়া যাবে না। তাঁর ভাষায়, “নো নিউক্লিয়ার ওয়েপন, সেটাই ৯৯ শতাংশ।” অর্থাৎ, হরমুজ় প্রণালী খোলা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার থেকেও বড় শর্ত হচ্ছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনা।এরই মধ্যে পাকিস্তানে পৌঁছে গিয়েছে ইরানের প্রতিনিধিদল। শনিবার থেকে শুরু হওয়া বৈঠকে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী করা, হরমুজ়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরানো—এই তিনটি বিষয়ই আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে বলে কূটনৈতিক সূত্রের খবর। তবে তেহরানের কড়া পূর্বশর্ত এবং ওয়াশিংটনের অনড় অবস্থান—দুই মিলিয়ে আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হবে, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ় প্রণালী ঘিরে এই টানাপোড়েন শুধু আমেরিকা-ইরান সম্পর্ক নয়, গোটা বিশ্বের তেলবাজার, শেয়ার সূচক এবং পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ইসলামাবাদের এই বৈঠক এখন কার্যত বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।