মেদিনীপুরে যোগা জাজেস ওরিয়েন্টেশন ক্যাম্প, অংশ নিলেন তিন জেলার ৭৫ জন

মেদিনীপুরে যোগা জাজেস ওরিয়েন্টেশন ক্যাম্প, অংশ নিলেন তিন জেলার ৭৫ জন

নিজস্ব সংবাদদাতা :যোগাসন প্রতিযোগিতায় বিচারকদের দক্ষতা ও বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক ও সঠিক করে তুলতে পশ্চিম মেদিনীপুরে অনুষ্ঠিত হলো একদিনের ‘যোগা জাজেস ওরিয়েন্টেশন ক্যাম্প’। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা যোগাসন সংস্থার ব্যবস্থাপনায় এবং জাতীয় ক্রীড়া ও শক্তি সংঘের সহযোগিতায় কে ডি কলেজ অফ কমার্স অ্যান্ড জেনারেল স্টাডিজে এই অনাবাসিক প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়।শিবিরে পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলার মোট ৭৫ জন যোগাসন শিক্ষক, বিচারক ও কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে কীনোট স্পিকার হিসেবে উপস্থিত থেকে যোগাসন বিচারকার্যের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন জেলা যোগাসন সংস্থার সম্পাদক প্রশান্ত কুমার ঘোষ।যোগ বিষয়ক অ্যানাটমি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন ইন্ডিয়ান যোগ ফেডারেশনের জাতীয় বিচারক আলোক কুমার পাল। অন্যদিকে, অ্যাডভান্স যোগাসন অনুশীলনের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় সাবধানতা নিয়ে মনোগ্রাহী আলোচনা করেন ফিজিওথেরাপিস্ট ডাঃ তমাল ঘোষ (MPT)।ইন্ডিয়ান যোগ ফেডারেশনের বয়সভিত্তিক ২৪টি বিভাগে ৬৪টি যোগাসন ভঙ্গিমা নিয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ ও আলোচনা হয়। এই পর্বে নেতৃত্ব দেন জাতীয় বিচারক মালবিকা দে। তাঁর সঙ্গে চিনাংশুক দাস, টোটন রায়, তপন চন্দ এবং অন্যান্য রাজ্য বিচারকরাও অংশ নেন।বর্তমান সময়ে যোগাসন প্রতিযোগিতায় প্রযুক্তির ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে ম্যানুয়াল ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে যোগাসন বিচারকার্য নিয়ে প্রশিক্ষণ দেন দুর্গাপুর থেকে রাজ্য সংস্থা মনোনীত প্রতিনিধি দেবাশীষবাবু।শিবিরে অংশগ্রহণকারী নতুনদের মধ্য থেকে জেলা স্তরের যোগাসন বিচারক তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর বিদ্যাসাগর স্মৃতি মন্দিরে অনুষ্ঠিত হতে চলা ৩৫তম জেলা যোগাসন প্রতিযোগিতায় তাঁদের থিওরি ও প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যদের মধ্য থেকে নতুন জেলা বিচারক নির্বাচন করা হবে।এছাড়াও অংশগ্রহণকারীদের আগ্রহ অনুযায়ী অনলাইন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ দর্শন সম্পর্কেও ধারাবাহিক আলোচনা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা যোগাসন সংস্থার কোষাধ্যক্ষ পার্থসারথি মণ্ডল, ডিএসএ মেদিনীপুরের সম্পাদক সঞ্জিত তোরই, সংস্থার কর্মকর্তা চন্দন সাউ, রঞ্জিত দে, মহাদেব তেলী-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।এই প্রশিক্ষণ শিবিরের মাধ্যমে যোগাসন প্রতিযোগিতার বিচারব্যবস্থায় আরও দক্ষ ও প্রশিক্ষিত বিচারক তৈরির পাশাপাশি তিন জেলার মধ্যে যোগচর্চা ও ক্রীড়া-সংক্রান্ত সমন্বয় আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।