নিজস্ব সংবাদদাতা : বাঁকুড়ার খাতড়ায় ‘ফর্ম-৭’ বোঝাই একটি গাড়ি আটককে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে অপব্যবহার করে বৈধ ভোটারদের নাম বাতিলের ষড়যন্ত্র চলছে। এই ঘটনায় পুলিশ বিজেপির দুই কর্মীকে আটক করেছে।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার দুপুরে। তালড্যাংরা থেকে খাতড়ার দিকে যাওয়া একটি সাদা রঙের চারচাকার গাড়ির পিছু নেন তৃণমূলের কয়েকজন কর্মী। তাঁদের দাবি, গাড়িটিতে বিপুল সংখ্যক পূরণ করা ‘ফর্ম-৭’ ছিল। শেষ পর্যন্ত খাতড়া সিনেমা রোডের কাছে গাড়িটি আটকে দেওয়া হয়। পরে ফর্ম-সহ গাড়িটি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে খাতড়া থানায় পৌঁছন রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডি এবং তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তারাশঙ্কর রায়। জ্যোৎস্না মান্ডির দাবি, গাড়িতে ২০–২১টি তাড়া পূরণ করা ‘ফর্ম-৭’ সহ আরও বহু আলাদা ফর্ম ছিল। তাঁর বক্তব্য, “এত বিপুল সংখ্যক ফর্ম পূরণ করে বিজেপির কর্মীরা খাতড়ায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া। তৃণমূল কর্মীরাই এই চক্রান্ত রুখে দিয়েছেন।”

তারাশঙ্কর রায়ের অভিযোগ আরও কড়া। তিনি বলেন, “বিজেপি নিজেদের দলীয় কার্যালয়ে বসে শয়ে শয়ে ভোটারের নামে ‘ফর্ম-৭’ পূরণ করেছে। আজ সেগুলি গাড়িতে করে জমা দিতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হলে আমাদের কর্মীরা তা আটকে দেয়।”
এই ঘটনাকে ঘিরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরব হন। নবান্নে বসে তিনি ‘ফর্ম-৭’-এর ছবি দেখিয়ে অভিযোগ করেন, তিনি ফর্মের ছবি দেখিয়ে বলেন, ‘‘এই দেখুন, এটা আমার কাছে এসেছে। এই হচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতি। এ ভাবেই নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে!”
অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা সুভাষ সরকার জানান, “আমাদের বিএলএ-রা বিএলও-দের কাছে ফর্ম জমা দিতে পারেননি। তাই সেগুলি একত্র করে এইআরও-র কাছে জমা দিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তৃণমূল রাস্তায় হামলা চালিয়ে আমাদের কর্মীদের মারধর করেছে এবং ফর্ম ছিনিয়ে নিয়েছে।” তাঁর দাবি, গাড়িতে থাকা দুই বিজেপি কর্মীর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ‘ফর্ম-৭’ কমিশনের ওয়েবসাইটেই উপলব্ধ। যে কোনও ভোটার এই ফর্ম জমা দিতে পারেন এবং শুধুমাত্র ফর্ম জমা দিলেই কারও নাম বাদ যায় না। যাচাই-বাছাইয়ের পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সব মিলিয়ে ‘ফর্ম-৭’ বোঝাই গাড়ি আটককে কেন্দ্র করে বাঁকুড়া থেকে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতর শুরু হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে খাতড়া থানার পুলিশ।