ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-এ প্রযুক্তি দুনিয়ার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠল আইআইটি খড়গপুরের বিশিষ্ট প্রাক্তন ছাত্র এবং গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই৷ এআই সামিটে কয়েকটি খুব গুরত্বপূর্ণ কথা সহজ ভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন৷ AI যে মানব সভ্যতায় চাকা, আগুন বা বিদ্যুৎ আবিষ্কারের মত গুরুত্বপূর্ণ সেকথা উল্লেখ করার পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন আগুনের ব্যবহার যেমন ঘর গরম রাখতে পারে, তেমনই তা পুড়িয়ে ছারখার করতে পারে জনপদ। বিদ্যুতের মাধ্যমে যেমন শহর আলোকিত হয়, তেমনই অসাবধানতায় প্রাণহানিও ঘটে। কথাগুলি আমাদের স্মরণে রাখা প্রয়োজন৷ সভ্যতার রূপ বদলে দেবে এআই: পিচাই চাকা আবিষ্কার থেকে বিদ্যুৎ-কালে কালে মানব সভ্যতাকে উন্নতির রেসিং ট্র্যাকে ফর্মুলা-১ এর গতিতে দৌড়তে সাহায্য করেছে এমন নানা অনুঘটক। সেই ভূমিকা এ বার নিতে চলেছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)। ভারতে এআই সামিটে এসে এমনটাই দাবি করলেন গুগল-এর মালিক সংস্থা অ্যালফাবেট ইনকর্পোরেশন-এর সিইও সুন্দর পিচাই। তাঁর কথায়, 'এআই কেবল একটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়, এটি মানব ইতিহাসের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। পিচাইয়ের সোজাসাপ্টা বয়ান, 'আগুন বা বিদ্যুতের আবিষ্কারের চেয়েও এআই-এর প্রভাব হবে অনেক বেশি গভীর এবং সুদূরপ্রসারী।'ইতিহাসের পাতায় তাকালে দেখা যায়, আগুন আমাদের কেবল উনুনেই সাহায্য করেনি, তা আদিম মানুষের মস্তিষ্ক বিকাশে এবং নিরাপত্তায় বড় - ভূমিকা নিয়েছিল। আবার হাজার বছর পর বিদ্যুতের ছোঁয়ায় বদলে গিয়েছিল গোটা বিশ্বের শিল্পায়ন আর যাপনের ধরন। পিচাই মনে করেন, এআই এই দুই মহাজাগতিক আবিষ্কারকেও ছাপিয়ে যাবে। কারণ, আগুন বা বিদ্যুৎ ছিল স্রেফ জড় সরঞ্জাম বা শক্তি। কিন্তু এআই হলো এমন এক 'টুল' যা নিজেই শিখতে পারে, চিন্তা করতে পারে এবং নিজের ভুল সংশোধন করে আরও উন্নত হতে পারে। এটি মানুষের শারীরিক সীমাবদ্ধতা নয়, বরং মানুষের চিন্তন ও বৌদ্ধিক ক্ষমতা বা 'কগনিটিভকেপেবিলিটি' কে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে।অর্থনীতির ভাষায় যাকে 'জেনারেল পারপাস টেকনোলজি' বলা হয়, এআই ঠিক তেমনই। এটি কেবল তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়, চিকিৎসাবিজ্ঞানে দ্রুত রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা কিংবা শিক্ষার আমূল পরিবর্তন-সবক্ষেত্রেই এর বিচরণ হবে অবারিত। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। আগুনের ব্যবহার যেমন ঘর গরম রাখতে পারে, তেমনই তা পুড়িয়ে ছারখার করতে পারে জনপদ। বিদ্যুতের মাধ্যমে যেমন শহর আলোকিত হয়, তেমনই অসাবধানতায় প্রাণহানিও ঘটে। পিচাইয়ের এই তুলনাটি আসলে পরোক্ষ সতর্কবার্তা। এআই-এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান হারানো, তথ্যের গোপনীয়তা নষ্ট বা অপব্যবহারের যে আশঙ্কা রয়েছে, তাকেও হেলাফেলা করার জো নেই। পিচাইয়ের এই দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমরা এখন আর কেবল যন্ত্র ব্যবহারকারী নই, আমরা এক নতুন যুগের স্রষ্টা। যে প্রজাতি এক দিন আগুন জ্বালিয়ে অন্ধকারকে জয় করেছিল, আজ তারাই এমন এক মেধা তৈরি করছে যা হয়তো কোনও কোনও ক্ষেত্রে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিকে টেক্কা দেবে। এই অসীম ক্ষমতার সদ্ব্যবহার কী ভাবে হবে, আগামী দিনে সভ্যতা কোন পথে হাঁটবে-এআই-এর হাতে সেই চাবিকাঠি তুলে দিয়ে পিচাই আসলে আমাদের যৌথ দায়িত্বের কথাই মনে করিয়ে দিলেন।
এআই সামিটে কয়েকটি খুব গুরত্বপূর্ণ কথা সহজ ভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই ---- সম্পাদকীয়