Skip to content

পাঠ্যপুস্তক থেকে শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণ সরিয়ে জুলাই অভ্যুত্থান যুক্ত করল বাংলাদেশ!

ঢাকা, জাকির হোসেন: ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের একাধিক পাঠ্যপুস্তকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন সংস্করণে কিছু বই থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়া হয়েছে এবং তার জায়গায় ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান সংক্রান্ত নতুন পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) গত ২৮ ডিসেম্বর সংশোধিত পাঠ্যপুস্তকের অনলাইন সংস্করণ প্রকাশ করার পর থেকেই এই পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। দেখা যাচ্ছে, মাধ্যমিক স্তরের ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ এবং বাংলা পাঠ্যবইয়ের একাধিক সংস্করণে বঙ্গবন্ধু সংক্রান্ত বিষয়বস্তু উল্লেখযোগ্যভাবে পরিমার্জিত হয়েছে। অষ্টম শ্রেণির বাংলা বই ‘সাহিত্য কণিকা’ থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত এই বইয়ের গদ্য অংশে ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ শিরোনামে ভাষণটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের সংস্করণে ১২টি গদ্যের জায়গায় এবার রাখা হয়েছে ১১টি গদ্য৷ তার পরিবর্তে যুক্ত করা হয়েছে ‘গণঅভ্যুত্থান’ শিরোনামের একটি নতুন গদ্য, যেখানে ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানকে ১৯৬৯ এবং ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। ওই পাঠে বলা হয়েছে, “আগের দুই অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিলেও নেতৃত্ব ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে। কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানে কোনও রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব ছিল না। আন্দোলন পরিচালনা করেছে শিক্ষার্থীরা, যাদের সঙ্গে যুক্ত হয় সর্বস্তরের মানুষ।” একই ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির অন্যান্য বইতেও। উচ্চ মাধ্যমিকের ইংরেজি পাঠ্যবই থেকেও শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ সংক্রান্ত পাঠটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এনসিটিবি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকেই পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধ ও রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাস অংশে ধাপে ধাপে সংশোধন আনা হচ্ছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে শেখ মুজিব সংক্রান্ত “অতিরঞ্জিত তথ্য” বাদ দেওয়ার বিষয়ে লিখিত নির্দেশ পাওয়ার পর এই সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ পুরোপুরি বাদ গেলেও অষ্টম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে ৭ মার্চের ভাষণ শিরোনামে ভাষণের তিনটি লাইন রাখা হয়েছে। সেখানে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ থাকলেও ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি ব্যবহার করা হয়নি। এ ছাড়া ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে ছয় দফা আন্দোলনের উল্লেখ থাকলেও বঙ্গবন্ধুর নাম অনুপস্থিত। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস রাখা হলেও শেখ মুজিবুর রহমান কীভাবে ‘বঙ্গবন্ধু’ হয়ে উঠলেন, সেই প্রসঙ্গ বাদ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ‘জাতির পিতা’ শব্দটি বাদ দেওয়া হলেও বঙ্গবন্ধু উপাধি ও তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের বিবরণ রাখা হয়েছিল। নতুন সংস্করণে সেই অংশও আর নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিটিবির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, “পাঠ্যবই পরিমার্জনের সময় আমি দায়িত্বে ছিলাম না। আমার যোগদানের আগেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে। বিষয়টি জানতে হলে প্রধান সম্পাদক থেকে তথ্য নিতে হবে।” তবে এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ ফাতিহুল কাদীর এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, পাঠ্যবই পরিমার্জনে ৫৭ সদস্যের একটি সম্পাদকীয় প্যানেল কাজ করেছে এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসি) এই পরিবর্তনগুলির অনুমোদন দিয়েছে। পাঠ্যবইয়ের এই রদবদল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন বলেই মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

Latest