Skip to content

বিশ্বকাপে গোলমেশিনদের যুদ্ধ! মুখোমুখি আর্লিং হ্যালান্ড ও হ্যারি কেন

নিজস্ব সংবাদদাতা : ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষায় এক মহারণ। মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। ম্যাচের মূল আকর্ষণ দুই বিশ্বমানের স্ট্রাইকার—নরওয়ের আর্লিং হ্যালান্ড এবং ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেন। চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন হ্যালান্ড। মাত্র চার ম্যাচে সাতটি গোল করে ইতিমধ্যেই গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষস্থানীয়দের মধ্যে উঠে এসেছেন তিনি। অন্যদিকে পাঁচ ম্যাচে ছয় গোল করে সমানভাবে আলোচনায় রয়েছেন হ্যারি কেন। গোল্ডেন বুটের দৌড়েও এই দুই তারকার লড়াই বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি পাঁচ ম্যাচে আট গোল করে সবার উপরে রয়েছেন। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পেও ছয় ম্যাচে সাত গোল করেছেন। ফলে হ্যালান্ড ও কেনের পারফরম্যান্স এই ম্যাচে শুধু দলের ভাগ্যই নয়, ব্যক্তিগত রেকর্ডের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ড সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ 'এল'-এর শীর্ষে থেকে শেষ করে। প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারানোর পর ঘানার বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে তারা। এরপর পানামাকে ২-০ গোলে পরাজিত করে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে।রাউন্ড অব ৩২-এ নাটকীয় ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় ইংল্যান্ড। শেষ ১৫ মিনিটে জোড়া গোল করে দলের ত্রাতা হন অধিনায়ক হ্যারি কেন। তাঁর নেতৃত্বেই ইংল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

অন্যদিকে নরওয়ে গ্রুপ 'আই'-এ দ্বিতীয় স্থান দখল করে নকআউটে ওঠে। প্রথম ম্যাচে ইরাককে ৪-১ গোলে হারানোর পর সেনেগালের বিরুদ্ধে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় তারা, যেখানে জোড়া গোল করেন আর্লিং হ্যালান্ড। শেষ গ্রুপ ম্যাচে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে একাধিক ফুটবলারকে বিশ্রাম দেওয়ায় ৪-১ ব্যবধানে হারলেও তাদের নকআউটে ওঠা নিশ্চিত ছিল। রাউন্ড অব ৩২-এ আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারায় নরওয়ে। আন্তোনিও নুসা প্রথম গোল করলেও ম্যাচের ৮৬ মিনিটে জয়সূচক গোল করেন হ্যালান্ড। এরপর শেষ ষোলোয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে নরওয়ে। সেই ম্যাচেও জোড়া গোল করে নায়ক ছিলেন হ্যালান্ড।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে নরওয়ে কখনও শিরোপা জেতেনি। এমনকি ১৯৯৮ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে তারা। সেই সময় বর্তমান দলের দুই বড় তারকা মার্টিন ওডেগার্ড ও আর্লিং হ্যালান্ডের জন্মই হয়নি। অন্যদিকে ১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ ট্রফির স্বাদ পায়নি ইংল্যান্ড। দীর্ঘ ছয় দশকের অপেক্ষা শেষ করার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামছে থ্রি লায়ন্স। শুধু হ্যালান্ড বনাম কেন নয়, ম্যাচে আরও একাধিক ব্যক্তিগত লড়াই নজর কাড়বে। নরওয়ের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের সঙ্গে ইংল্যান্ডের ডেকলান রাইসের মধ্যমাঠের লড়াই হতে পারে ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ। এছাড়া হ্যালান্ডকে আটকানোর দায়িত্ব থাকবে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের উপর, যেখানে তাঁর পরিচিত ক্লাব-সতীর্থদের বিরুদ্ধেই খেলতে হবে নরওয়ের গোলমেশিনকে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে দুই দলের লক্ষ্য একটাই—৯০ মিনিটের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়া। মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে তাই ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষায় রয়েছেন আরেকটি স্মরণীয় বিশ্বকাপ মহারণের।

Latest