খড়কুশমায় বিজেপি–সিপিএম সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৩০

খড়কুশমায় বিজেপি–সিপিএম সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৩০

নিজস্ব সংবাদদাতা :চন্দ্রকোনা রোডে সিপিএমের পার্টি অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা। খড়কুশমা এলাকায় বিজেপি ও সিপিএমের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দু’পক্ষেরই একাধিক কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে খড়কুশমা, সন্ধিপুর-সহ সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে অবশ্য বিজেপি ও সিপিএমের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। বিজেপির দাবি, খড়কুশমায় সিপিএমের একটি পার্টি অফিসে দলীয় পতাকা তোলাকে কেন্দ্র করে প্রথমে বচসা শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিজেপির অভিযোগ, এরপর সিপিএমের লোকজন তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা চালায়। ঘটনায় দলের একাধিক কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি বিজেপির।অন্যদিকে সিপিএমের বক্তব্য, তাদের পার্টি অফিসে বিজেপির কয়েকজন কর্মী-সমর্থক গিয়ে গেরুয়া রং করার চেষ্টা করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাতে বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। সিপিএমের দাবি, এলাকার মানুষই ওই ঘটনার প্রতিবাদ করেন এবং সেই সময় দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাদের কয়েকজন কর্মী-সমর্থকও আহত হয়েছেন বলে দাবি বামেদের।ঘটনার পর সন্ধিপুর এবং গড়বেতার পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও উত্তেজনা ছড়ায়। রাতের দিকে দু’পক্ষের মধ্যে ফের মারামারির পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। তবে ঘটনার পরেও এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, তাঁদের কর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে হবে। একইসঙ্গে এলাকায় শান্তি ফেরাতে পুলিশকে কার্যকর পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছে তারা। দলের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে কড়া বার্তাও দেওয়া হয়েছে।পাল্টা সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, বিজেপির পক্ষ থেকে দলীয় কার্যালয়ে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হয়েছিল। স্থানীয় মানুষ তার প্রতিবাদ করেছেন। আগামী দিনেও এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে এলাকার মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন বলে দাবি বাম নেতৃত্বের।এদিকে, সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষের সঙ্গে চন্দ্রকোনা রোডে সিপিএমের পার্টি অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। ওই ঘটনায় সিপিএমের পক্ষ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হলেও বিজেপি তা অস্বীকার করেছিল। ফলে পরপর দুই ঘটনায় পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহল লাগোয়া এলাকায় ফের রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে।বর্তমানে খড়কুশমা ও সংলগ্ন এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।