নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে অন্তর্বর্তী জামিন দিল কলকাতা হাই কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা :নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে বড় আইনি স্বস্তি পেলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন-পর্বের সঙ্গে যুক্ত পুরনো ছ’টি মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলে থাকা মিলন প্রধানকে মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী জামিন দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের নির্দেশে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি জামিনে থাকবেন। ফলে ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে জেলের বাইরে থেকেই প্রচারে অংশ নিতে পারবেন কংগ্রেস প্রার্থী।মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির মধ্যে খুন, খুনের চেষ্টা, বেআইনি জমায়েত এবং লুটপাটের মতো অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরই তাঁকে পুরনো মামলায় গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকেই তাঁর গ্রেফতারি ঘিরে নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে উত্তাপ আরও বাড়তে থাকে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে গ্রেফতারিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করা হলেও, পুলিশ ও রাজ্য সরকারের বক্তব্য ছিল—মামলাগুলি পুরনো এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ীই পদক্ষেপ করা হয়েছে।মঙ্গলবার আদালতের রায় প্রকাশ্যে আসতেই নন্দীগ্রামে কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। নন্দীগ্রাম বাইপাস সংলগ্ন কংগ্রেস কার্যালয়ে কার্যত উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। দলের ব্লক সভাপতি থেকে শুরু করে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দেখা যায় আনন্দের আবহ।কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, আদালতের এই সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রার্থীর অংশগ্রহণের পথ খুলে দিয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের কথায়, “মহামান্য আদালতকে ধন্যবাদ জানাই। গণতন্ত্রের জয় হয়েছে। গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা যায় না।”জেল থেকে বেরিয়ে মিলন প্রধানকে নিয়ে বড়সড় প্রচারের প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে কংগ্রেস। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হুডখোলা জিপে ফুলের মালা দিয়ে হলদিয়া থেকে তাঁকে বরণ করে নন্দীগ্রামজুড়ে প্রচারে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে।বাবার জামিনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মিলন প্রধানের মেয়ে অরুণিমা প্রধান। তিনি বলেন, “আমি কারও নাম নেব না। যা সত্যি তাই থাকুক। আমার বাবা কখনও কোনও ভুল কাজ করেননি। আমার বাবার যেটা হওয়ার সেইটাই হবে।”মিলন প্রধানের জামিনের পরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার দাবি করেন, মানুষের প্রতিবাদ এবং আদালতের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “মহামান্য আদালত তাঁকে জামিন দিয়েছে। এর থেকে প্রমাণিত, মিথ্যাকে স্থায়ী করা যায় না।”অন্যদিকে বিজেপি বিধায়ক তথা মুখপাত্র সজল ঘোষ বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য যাই থাকুক, কোনও গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত কাউকে প্রার্থী করা হলে আইন তার নিজস্ব পথে চলবে। তাঁর বক্তব্য, সরকারের কাজ হল বিষয়টি আইনের আওতায় নিয়ে যাওয়া।সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ-ও কংগ্রেস ও বিজেপি—দুই পক্ষকেই আক্রমণ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, শুভেন্দু অধিকারীর প্রার্থীর পাশাপাশি তাঁরা মিলন প্রধানের বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক লড়াই করছেন। তাঁর দাবি, ভোট ঘোষণার পর পুরনো মামলায় মিলন প্রধানের গ্রেফতারি নিয়ে যে রাজনৈতিক প্রশ্ন উঠেছে, তার দায় বিজেপি ও রাজ্য সরকারের উপরেই বর্তায়।আদালতের অন্তর্বর্তী জামিনে আপাতত জেলমুক্তির পথ খুলেছে মিলন প্রধানের। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে এবং প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে সংশ্লিষ্ট থানার তদন্তকারী আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তাঁকে আদালতে আত্মসমর্পণও করতে হবে।