বিধানসভায় বাগেশ্বর বাবার প্রসঙ্গ, ছবি পোড়ানো নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর!

বিধানসভায় বাগেশ্বর বাবার প্রসঙ্গ, ছবি পোড়ানো নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর!

নিজস্ব সংবাদদাতা :দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবার পৌঁছল বিধানসভায়। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ওই মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে বাগেশ্বর বাবার পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, কোনও সাধু বা ধর্মীয় ব্যক্তির বক্তব্য কারও পছন্দ হলে গ্রহণ করবেন, না হলে করবেন না। কিন্তু সেই কারণে তাঁর ছবি পোড়ানো বা তাঁকে অপমান করা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।বৃহস্পতিবার বিধানসভায় প্রথম থেকেই গেরুয়া শব্দের অপমানের বিরুদ্ধে রীতিমতো কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নাম না করে মধ্যপ্রদেশের সন্ত বাগেশ্বর বাবার প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন তিনি। তিনি বলেন, “লিলুয়াতে একজন সন্ত এসেছিলেন, তিনি দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ, অখণ্ড ভারতের কথা বলেছেন। তাঁর ঐতিহ্য-সংস্কৃতির কথা তাঁর মতন করে বলেছেন। যাঁর গ্রহণ করার করবেন, যাঁর গ্রহণ করার করবেন না।” তিনি এও বলেন, “তিনি তো কারোর ওপর কিছু চাপিয়ে দিতে চাননি।”সম্প্রতি লিলুয়ার একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন মধ্যপ্রদেশের ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। সেখানেই দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার নিয়ে তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ ওঠে, ওই মন্তব্য বাঙালির খাদ্যাভ্যাস ও সাংস্কৃতিক আবেগে আঘাত করেছে।ঘটনার প্রতিবাদে ভবানীপুরে পথে নামে কংগ্রেস ও যুব কংগ্রেস। ভবানীপুর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগও জমা দেওয়া হয়।বিধানসভায় সেই ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করেন শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুর থানার সামনে ছবি পোড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দেন তিনি।তিনি বলেন, “আমি কতগুলো লোককে দেখলাম, ভবানীপুরে থানার সামনে ছবি পুড়িয়েছে। আমি এখান থেকে সিপি-কে বলছি, ওই লোকগুলোকে গ্রেফতার করতে হবে। এ রাজ্যে এসব চলবে না। অনেক করেছেন।”এদিনের বক্তব্যে বামেদেরও নিশানা করেন শুভেন্দু। ‘অ্যাপিজমেন্টের রাজনীতি’ করার অভিযোগ তুলে বামেদের রাজনৈতিক শক্তি কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেন তিনি।