নিজস্ব সংবাদদাতা : টলিউড ও কলকাতার সাংস্কৃতিক মহলে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ভোর ৩টেয় মুকুন্দপুরের মণিপাল হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী দীপালি চক্রবর্তী। কয়েক দিন ধরেই তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর প্রয়াণের খবরে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন পরিবার, সহশিল্পী এবং সংস্কৃতি জগতের বহু মানুষ।দুপুরে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শেষকৃত্যের আগে প্রয়াত শিল্পীর প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ক্যালকাটা কয়ারের কর্ণধার, স্বনামধন্য সঙ্গীত পরিচালক ও শিল্পী কল্যাণ সেন বরাট এবং তাঁর সহশিল্পীরা। উপস্থিত ছিলেন দীপালি দেবীর দুই কন্যা সুদীপ্তা ও বিদীপ্তা চক্রবর্তী, পাশাপাশি বৃহত্তর পরিবারের সদস্যরাও। অভিনেতা চন্দন সেন, সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্টজন এবং রবীন দেব-সহ অনেকেই শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শ্মশানে উপস্থিত ছিলেন।শোকের আবহে কল্যাণ সেন বরাটের পরিচালনায় সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রসংগীত “আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে”। সেই আবেগঘন মুহূর্তে উপস্থিত সকলের চোখে জল ধরা পড়ে।উল্লেখ্য, দীপালি চক্রবর্তী ছিলেন প্রয়াত বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব বিপ্লব কেতন চক্রবর্তীর সহধর্মিণী।

বিপ্লববাবু পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার একজন আধিকারিক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁদের তিন কন্যা— বিদীপ্তা, বিদিশা ও সুদীপ্তা চক্রবর্তী— সকলেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে পরিচিত মুখ।দীপালি চক্রবর্তী একজন দক্ষ ওড়িশি নৃত্যশিল্পী এবং নৃত্যগুরু হিসেবে বিশেষ সম্মান অর্জন করেছিলেন। তাঁর নৃত্যশৈলী, মঞ্চসত্তা এবং ছাত্রছাত্রীদের প্রতি নিবেদন তাঁকে সাংস্কৃতিক মহলে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল।

এদিন কন্যা সুদীপ্তা চক্রবর্তী সমাজমাধ্যমে মায়ের একটি ছবি পোস্ট করে শুধু এক শব্দ লিখেছেন— “মা”। সেই এক শব্দেই ধরা পড়েছে শোক, স্মৃতি এবং এক গভীর ব্যক্তিগত শূন্যতার অনুভব। পোস্টটি দেখেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনুরাগী ও শুভানুধ্যায়ীরা।দীপালি চক্রবর্তীর প্রয়াণে বাংলা সংস্কৃতি জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হল। তাঁর নৃত্যসাধনা, শিল্পচর্চা এবং অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর মনে গড়ে তোলা শিল্পবোধ আগামী দিনেও চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।