শহীদের জন্মভূমিতে উন্নয়নের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একগুচ্ছ আবেদন ক্ষুদিরামের বংশধর শান্তি বসুর!
অভিজিৎ সাহা: বীর শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর জন্মভূমি পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের মোহবনি। ১১ আগস্ট শহীদের আত্মবলিদান দিবস উপলক্ষে মোহবনিতে বিশেষ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রশাসনিক তৎপরতায় নতুন করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে শহীদের জন্মভূমি। এই সফরকে সামনে রেখে মোহবনির দীর্ঘদিনের পরিকাঠামোগত সমস্যাগুলি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরতে চান শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর বংশধর শান্তি বসু।শান্তি বসুর দাবি, শহীদের জন্মভূমি হিসেবে মোহবনির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। তাই শুধু কোনও বিশেষ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সৌন্দর্যায়ন নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে যুক্ত পরিকাঠামোরও স্থায়ী উন্নয়ন প্রয়োজন। গ্রামের রাস্তাঘাট সংস্কার ও উন্নয়ন, পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা, পথবাতি এবং নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্য একটি উন্নতমানের খেলার মাঠ তৈরির দাবিও জানিয়েছেন তিনি।শান্তি বসুর কথায়, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলে মোহবনির রাস্তাঘাটের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে তুলে ধরবেন তিনি। পাশাপাশি পানীয় জল, পথবাতি, নিকাশি ব্যবস্থা এবং গ্রামের ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার জন্য উপযুক্ত মাঠ তৈরির বিষয়েও আবেদন জানাবেন।
‘মোহবনিতে মুখ্যমন্ত্রীর আসা ঐতিহাসিক’ :
মোহবনিতে মুখ্যমন্ত্রীর সফরকে ঐতিহাসিক বলেও উল্লেখ করেছেন শান্তি বসু। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথম তিনি মোহবনিতে আসছেন। যদিও সাংসদ ও মন্ত্রী থাকাকালীন এর আগে একাধিকবার এই এলাকায় এসেছেন তিনি। শান্তি বসুর দাবি, ২০১১ সালে সাংসদ থাকাকালীন মোহবনিতে ‘ক্ষুদিরামে কিছুক্ষণ’ নামে একটি প্রতীক্ষালয়ের উদ্বোধনও করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।তাঁর কথায়, “এই প্রথম রাজ্যের কোনও মুখ্যমন্ত্রী মোহবনিতে আসছেন। এটা মোহবনিবাসীর কাছে বড় পাওনা এবং আনন্দের বিষয়।”
নতুন করে সাজছে শহীদের জন্মভূমি :
ক্ষুদিরাম বসুর জন্মস্থান মোহবনিকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। এলাকায় রয়েছে শহীদের পূর্ণাবয়ব মূর্তি, শহীদ ক্ষুদিরাম স্মৃতি পাঠাগার, সাংস্কৃতিক মঞ্চ, বড় মাঠ, ইনডোর সাংস্কৃতিক মঞ্চ এবং পর্যটকদের বসার জন্য বিভিন্ন পরিকাঠামো। রাস্তার পাশেই রয়েছে ‘শহীদ ক্ষুদিরাম বসু স্মৃতি ইকোপার্ক’।১১ আগস্টের অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে বর্তমানে গোটা এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা ও সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে। তৈরি করা হচ্ছে বিশাল প্যান্ডেল। পাশাপাশি সীমানা প্রাচীর, সাংস্কৃতিক মঞ্চ, পতাকা বেদী এবং মূল প্রবেশদ্বারে চলছে সংস্কার ও রংয়ের কাজ। আগাছা ও জঞ্জাল সরিয়ে নতুন করে সাজানো হচ্ছে গোটা এলাকা।মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতাও রয়েছে তুঙ্গে। দফায় দফায় মোহবনি পরিদর্শন করছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। জেলা শাসক বিজিন কৃষ্ণা, পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা-সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
‘ক্ষুদিরাম বসু’ নামে রেলস্টেশনের দাবিও :
মোহবনির স্থানীয় উন্নয়নের পাশাপাশি আরও একটি দীর্ঘদিনের দাবি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরতে চান শান্তি বসু। কেশপুরে শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর নামে একটি রেলস্টেশন তৈরির দাবি জানিয়েছেন তিনি।তাঁর বক্তব্য, চন্দ্রকোনা রোড থেকে কেশপুর, চন্দ্রকোনা টাউন, ঘাটাল হয়ে পাঁশকুড়া পর্যন্ত রেলপথ তৈরির দাবি দীর্ঘদিনের। ভবিষ্যতে এই প্রস্তাবিত রেলপথে কেশপুরে যে স্টেশন তৈরি হবে, তার নাম ‘ক্ষুদিরাম বসু’ রাখার আবেদন জানানো হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে এই দাবিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন-নিবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলে এই দাবিটিও তাঁর কাছে তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন শান্তি বসু।ক্ষুদিরাম বসুর জন্মভূমি মোহবনি শুধু পশ্চিম মেদিনীপুরের নয়, গোটা বাংলার মানুষের কাছে আবেগ, ইতিহাস ও গর্বের জায়গা। প্রতি বছর ১১ আগস্ট আত্মবলিদান দিবসে বহু মানুষ এখানে এসে শহীদ ক্ষুদিরামের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ফলে ঐতিহাসিক ও পর্যটন গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে মোহবনির পরিকাঠামোর স্থায়ী উন্নয়নের দাবি দীর্ঘদিনের।মুখ্যমন্ত্রীর এবারের সফরকে ঘিরে সেই দাবিই নতুন করে জোরালো হয়েছে। শান্তি বসুর প্রত্যাশা, এই সফরের মাধ্যমে শহীদের জন্মভূমির উন্নয়নে নতুন দিশা মিলবে। রাস্তা, পানীয় জল, পথবাতি, নিকাশি থেকে শুরু করে শিশু-কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্থায়ী উন্নয়ন হবে। পাশাপাশি কেশপুরে শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর নামে রেলস্টেশনের দীর্ঘদিনের দাবিও বাস্তবায়নের পথে এগোবে—এমনটাই প্রত্যাশা মোহবনিবাসীর।