নিজস্ব সংবাদদাতা : রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখায় ভারতের উপর আরও বেশি শুল্ক চাপানোর ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এই বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও নয়াদিল্লি মস্কোর সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে, যা নিয়ে তিনি স্পষ্টতই অসন্তুষ্ট। ট্রাম্পের বক্তব্য, এই অসন্তোষের কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও জানতেন। রবিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “ওরা (ভারত) রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করছে। আমরা খুব শিগগিরই ভারতের উপর আরও বেশি শুল্ক চাপাতে পারি।” একই সঙ্গে মোদীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী খুব ভালো মানুষ। কিন্তু উনিও জানতেন, আমি খুশি নই। আমাকে খুশি রাখা জরুরি ছিল।” যদিও ট্রাম্প বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি, তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি বন্ধ না হওয়াই তাঁর ক্ষোভের মূল কারণ। উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, মোদী তাঁকে রুশ তেল কেনা বন্ধ করার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে সেই সময় ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল, এই বিষয়ে দু’নেতার মধ্যে কোনও আলোচনা হয়নি।
প্রসঙ্গত, রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল কেনার ‘শাস্তি’ হিসেবে ইতিমধ্যেই ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর ফলে আমেরিকায় ভারতীয় পণ্যের উপর মোট শুল্কের হার দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে। পাশাপাশি, আমেরিকার সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবেও রুশ তেল আমদানি বন্ধ করার চাপ রয়েছে নয়াদিল্লির উপর। শুধু তাই নয়, রাশিয়ার তেল সংস্থা রসনেফ্ট ও লুকঅয়েলের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে ওয়াশিংটন। এই চাপের মুখেও ভারত বারবার জানিয়ে এসেছে, দেশের উপভোক্তাদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই জ্বালানি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোন দেশ থেকে কম দামে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেটিও বিবেচনায় রাখা হবে বলে স্পষ্ট করেছে সরকার। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আমেরিকা ও পশ্চিমি দেশগুলি রাশিয়ার তেল রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সেই পরিস্থিতিতে তেল বিক্রি চালু রাখতে বড় ছাড় ঘোষণা করে পুতিন প্রশাসন। ফলস্বরূপ, পশ্চিম এশিয়ার উপর নির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে ভারত ধীরে ধীরে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বাড়ায়। বর্তমানে চিনের পর ভারতই রুশ তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা। ট্রাম্পের দাবি, শুল্ক আরোপের পরেও ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমায়নি। মার্কিন প্রশাসনের মতে, এই তেল বিক্রির অর্থই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহার করছে রাশিয়া। যুদ্ধ থামাতে পুতিনকে আলোচনার টেবিলে আনতে ‘অর্থনৈতিক চাপ’ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে হোয়াইট হাউস।
অন্য দিকে, গত ডিসেম্বরে ভারতে সফরে এসে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মন্তব্য করেছিলেন, আমেরিকাও পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনে। সেক্ষেত্রে ভারতের সেই অধিকার অস্বীকার করা কেন— সেই প্রশ্নও তুলেছিলেন তিনি। প্রয়োজনে এই বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বসতেও রাশিয়া প্রস্তুত বলে জানিয়েছিলেন পুতিন। এই পরিস্থিতিতে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্ক কোন পথে এগোয়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।