Skip to content

অক্টোবরেই ডিটিপিএসে নতুন ৮০০ মেগাওয়াট ইউনিটের কাজ শুরু? গাছ কাটা বিতর্কে প্রশাসনিক বৈঠকে মিলল সমাধানের ইঙ্গিত!

1 min read

নিজস্ব সংবাদদাতা :  দুর্গাপুরে বড় শিল্প প্রকল্প ঘিরে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটতে চলেছে। অক্টোবরের মধ্যেই Damodar Valley Corporation-এর দুর্গাপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র Durgapur Thermal Power Station (ডিটিপিএস)-এ অষ্টম ইউনিট নির্মাণের কাজ শুরু হতে পারে বলে জানালেন কর্তৃপক্ষ। ২৫শে ফেব্রুয়ারি , বুধবার সন্ধ্যায় প্রশাসনিক বৈঠকের পর এই আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।ডিভিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে ডিটিপিএসে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ‘সুপারক্রিটিক্যাল ইউনিট’ গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন ইউনিটের জন্য নির্ধারিত জমির বেশিরভাগ অংশ ইতিমধ্যেই পাঁচিল দিয়ে ঘেরা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতাল, স্কুল, প্রশাসনিক ভবন, ডাকঘর-সহ বিভিন্ন পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ জোরকদমে চলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতের সুবিধার্থে একটি বড় আন্ডারপাসও তৈরি হচ্ছে। প্রকল্পের জন্য মোট প্রায় ৪০০ একর জমির প্রয়োজন। নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ৩০ শতাংশ এলাকায় বৃক্ষরোপণ বাধ্যতামূলক হলেও, দুর্গাপুরে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে সবুজায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি ডিটিপিএসের। অর্থাৎ প্রায় ১৬৬ একর জমিতে গাছ লাগানো হবে। যে জমিগুলি এখনও জবরদখলে রয়েছে, সেগুলি মুক্ত করে সেখানে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এই প্রকল্প ঘিরে গাছ কাটার সম্ভাবনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। গত ১১ অগস্ট বর্ধমান–দুর্গাপুরের তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ সংসদে প্রস্তাব জমা দিয়ে জানান, প্রায় ১৫ হাজার গাছ কাটা হতে পারে। তিনি গাছ কাটার পরিবর্তে প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব দেন।

২৫শে ফেব্রুয়ারি ,বুধবার দুর্গাপুর মহকুমাশাসকের দফতরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক পুন্নমবলম এস, মহকুমাশাসক (দুর্গাপুর) সুমন বিশ্বাস, সাংসদ কীর্তি আজাদ, বনাধিকারিক অনুপম খাঁ-সহ ডিভিসি ও ডিটিপিএসের শীর্ষ আধিকারিকরা। বৈঠকে ডিটিপিএসের প্রকল্প প্রধান সুকুমার সাহা জানান, প্রকল্পের আগে বন দফতর ও পরিবেশপ্রেমী বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে। নিয়ম মেনে বন দফতরকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ১৫ হাজার নয়, মোট প্রায় ৭ হাজার গাছ সরাতে হবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন। তার বদলে নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ গুণ অর্থাৎ প্রায় ৩৫ হাজার গাছ বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে অন্যত্র রোপণ করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছর সেই সংস্থাই গাছগুলির পরিচর্যার দায়িত্বে থাকবে।এছাড়াও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে প্রায় এক হাজার গাছ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। নতুন ইউনিটে ‘ড্রাই ফ্লাই অ্যাশ’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে, যার ফলে ছাই উড়ার সম্ভাবনা কমবে এবং দূষণও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।সাংসদ কীর্তি আজাদ বৈঠককে “ইতিবাচক” বলে উল্লেখ করে জানান, গত তিন মাসে ডিভিসি পাঁচ গুণ গাছ রোপণ করেছে। অন্যদিকে বনাধিকারিক অনুপম খাঁ বলেন, কর্তৃপক্ষ নিয়ম মেনে গাছ লাগানোর প্রক্রিয়ার ভিডিও নথিও দেখিয়েছেন। সরেজমিন পরিদর্শনের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।প্রকল্প প্রধান সুকুমার সাহার দাবি, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে বন দফতরের ছাড়পত্র পেতে সমস্যা হবে না। সেক্ষেত্রে অক্টোবরের মধ্যেই অষ্টম ইউনিট নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। দুর্গাপুরের শিল্প ও কর্মসংস্থানের মানচিত্রে এই প্রকল্প নতুন গতি আনবে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

Latest