অভিজিৎ সাহা : অনুষ্ঠান মঞ্চে অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন সাংসদ মিমি চক্রবর্তীকে হেনস্থার অভিযোগে গ্রেফতার করা হল অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা তথা জ্যোতিষী তনয় শাস্ত্রীকে। রবিবার বনগাঁর নয়াগোপালগঞ্জ যুবক সংঘের বাৎসরিক অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে।জানা গিয়েছে, রবিবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ মিমি চক্রবর্তীর মঞ্চে ওঠার সময় নির্ধারিত থাকলেও তিনি প্রায় দেড় ঘণ্টা দেরিতে অনুষ্ঠানে পৌঁছন। মঞ্চে উঠতে উঠতে রাত পৌনে ১২টা বেজে যায়। প্রশাসনের কাছ থেকে অনুষ্ঠান চালানোর অনুমতি ছিল রাত ১২টা পর্যন্ত। সেই সময়সীমার কথা উল্লেখ করে মিমিকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন উদ্যোক্তা তনয় শাস্ত্রী।

অভিযোগ, অনুষ্ঠান চলাকালীন ক্লাবের অন্যতম কর্মকর্তা তনয় শাস্ত্রী মঞ্চে উঠে অভিনেত্রীর গানে বাধা দেন এবং তাঁকে নামিয়ে দেন। এই ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। মঞ্চে প্রকাশ্যে এই আচরণে অপমানিত বোধ করেন মিমি চক্রবর্তী। মঞ্চ থেকে নেমেই তিনি বনগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পাশাপাশি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলেও ক্ষোভ উগরে দিয়ে লেখেন, “এর শেষ দেখে ছাড়বো।”অন্যদিকে, ক্লাবের কর্মকর্তা রাহুল বসু ও শোভন দাস অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, “মিমি চক্রবর্তীকে কোনও অসম্মান করা হয়নি। তিনি এক ঘণ্টারও বেশি দেরিতে মঞ্চে ওঠেন। প্রশাসনের অনুমতি ও মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কথা ভেবেই ঠিক রাত ১২টায় অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়। অনুষ্ঠান বন্ধের ঘোষণাকে ওঁর অসম্মান মনে হতে পারে, কিন্তু তাঁকে সসম্মানেই বিদায় জানানো হয়েছে।”ঘটনার তিনদিন পর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বনগাঁ থানার পুলিশ অভিযুক্ত তনয় শাস্ত্রীকে গ্রেফতার করে। তবে গ্রেফতারের সময় স্থানীয়দের একাংশ পুলিশের কাজে বাধা দেয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।