অভিজিৎ সাহা: দুর্গাপুর পুরসভায় গত চার বছরে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় দুই বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই এবং চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা অভিযোগের পর এবার তদন্তের আশ্বাস দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। রবিবার দুর্গাপুরে প্রাক-বাজেট বাণিজ্য বিষয়ক এক আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, পুরসভার দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, “কাউকে রেয়াত করা হবে না। পুরসভায় দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এদিন আরও কড়া বার্তা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “যাঁরা দুর্নীতি করেছেন, তাঁরা প্রস্তুত থাকুন। তদন্ত শুরু হলে পালানোর কোনও সুযোগ থাকবে না। দেশের যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, তাঁদের খুঁজে বের করা হবে। দুর্নীতির সঙ্গে কোনও আপোস করা হবে না।” এদিকে দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, দুর্গাপুর পুরসভা এবং দুর্গাপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এডিডিএ)-এর একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের হঠাৎ কলোনি এলাকায় সরকারি জমি অবৈধভাবে প্লট করে মোটা টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়েছে। এই ঘটনায় কারা জড়িত এবং কারা মদত দিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জেলাশাসকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিধায়কের অভিযোগ অনুযায়ী, পুরসভার বিল্ডিং প্ল্যানিং বিভাগ, কেয়ারটেকার বিভাগ-সহ একাধিক শাখায় দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চলেছে। ইতিমধ্যেই বিল্ডিং প্ল্যানিং বিভাগের এক কর্মীকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, ওই বিভাগ থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে একাধিক বহুতল নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।অন্যদিকে, কেয়ারটেকার বিভাগের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে পুরসভার গাড়ির জ্বালানি তছরুপের অভিযোগও সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে তদন্তের দাবি উঠেছে। দুর্গাপুর পুরসভার প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র দিলীপ অগস্তিও একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন। তাঁর দাবি, শহরের সাতটি টোল প্লাজা থেকে বছরে প্রায় ৯ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হওয়ার কথা থাকলেও সঠিক পরিচালনার অভাবে সেই আয়ের উৎস কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন বিভাগের ফাইল খতিয়ে দেখলেই প্রকৃত অনিয়মের চিত্র সামনে আসবে বলেও তিনি দাবি করেছেন। তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলির সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়ার পরই চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট হবে। দুর্গাপুরের এই বিতর্ক ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমশ বাড়ছে। তদন্তের আশ্বাসের পর এখন নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং অভিযোগগুলির সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয়, তার দিকেই।
দুর্গাপুর পুরসভায় দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ, তদন্তের হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর