মুখ প্লাস্টিকে ঢাকা,সেলুনে ঝুলছে নাপিতের দেহ! নদিয়ার রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য

মুখ প্লাস্টিকে ঢাকা,সেলুনে ঝুলছে নাপিতের দেহ! নদিয়ার রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য
প্রতীকী ছবি।

নিজস্ব সংবাদদাতা: চার দিন ধরে বন্ধ ছিল সেলুন। গত দু’দিন ধরে দোকান থেকে ছড়াচ্ছিল তীব্র দুর্গন্ধ। মঙ্গলবার সকালে সেই দুর্গন্ধ অসহনীয় হয়ে উঠতেই পুলিশে খবর দেন আশপাশের ব্যবসায়ীরা। এরপর সেলুনের তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকতেই দেখা যায়, দোকানের এক কোণে ঝুলছে এক যুবকের পচাগলা দেহ। মুখ কালো প্লাস্টিকে মোড়া। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নদিয়ার গয়েশপুরের বেদীভবন বাজারে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম অমিত শীল (৩৫)। তিনি গয়েশপুর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাঁতরাপুর এলাকার বাসিন্দা। পেশায় ক্ষৌরকার অমিতের নিজের সেলুন ছিল বেদীভবন বাজারে। গত কয়েক দিন ধরে তাঁকে এলাকায় দেখতে পাননি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে একটি চায়ের দোকানে কয়েক জন অমিতকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, তাঁর পারিবারিক জীবন নিয়েও এলাকায় নানা আলোচনা চলছিল। অমিতের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অনাগত সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ ছিল বলেও দাবি স্থানীয়দের। তবে এই পারিবারিক বিবাদের সঙ্গে অমিতের মৃত্যুর কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।মঙ্গলবার সকালে দুর্গন্ধ তীব্র হয়ে উঠলে সন্দেহ হয় আশপাশের দোকানদারদের। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই কল্যাণী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেলুনের তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকে। সেখানে অমিতের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায় পুলিশ। দেহে পচন ধরেছিল। মুখ প্লাস্টিকে ঢাকা থাকায় ঘটনাটি ঘিরে আরও রহস্য তৈরি হয়েছে।ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে খুনের অভিযোগও উঠেছে। আবার আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন কেউ কেউ। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত নয় পুলিশ। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর কারণ ও আনুমানিক সময় সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।ব্যক্তিগত বিবাদ, পারিবারিক অশান্তি নাকি অন্য কোনও কারণে এই মৃত্যু—সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ইতিমধ্যে স্থানীয় কয়েক জন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলেছেন তদন্তকারীরা। মৃতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলে ঘটনার সূত্র খোঁজার চেষ্টা করা হবে। রহস্যমৃত্যুর নেপথ্যে কী রয়েছে, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।

\\\\\\\\n\\\\\\\\n\\\\\\\\n\\\\n\\\\n\\n\\n\n\n