শালবনী জমি মামলায় সুমিত-সহ চারজনের ৫ দিনের CID হেফাজত!
সেখ ওয়ারেশ আলী : শালবনী জমি সংক্রান্ত মামলায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। শনিবার মেদিনীপুর আদালতে সুমিত রায়ের সঙ্গে পেশ করা হয় আরও তিন অভিযুক্ত—অমিত ঘোষ, নিত্যানন্দ রায় ও লক্ষ্মীকান্ত ভূঁইয়াকে। জমি সংক্রান্ত লেনদেনে তাঁদের ‘লিঙ্কম্যান’ হিসেবে ভূমিকা ছিল বলে আদালতে দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থা। সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয় বলে CID-এর তরফে জানানো হয়েছে।চার অভিযুক্তের পক্ষ থেকে আদালতে জামিনের আবেদন করা হলেও তা খারিজ হয়ে যায়। এরপর সুমিত রায়, অমিত ঘোষ, নিত্যানন্দ রায় ও লক্ষ্মীকান্ত ভূঁইয়াকে পাঁচ দিনের CID হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।তদন্তে নয়া মোড় এসেছে বাজেয়াপ্ত সামগ্রী ঘিরেও। তদন্তের স্বার্থে পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং একাধিক নথি বাজেয়াপ্ত করেছে CID।

সেই সমস্ত মোবাইল ও নথি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সেগুলি থেকে জমি লেনদেন এবং আর্থিক আদান-প্রদানের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যায় কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।তবে মামলায় সবচেয়ে বড় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে CID-এর ফরওয়ার্ডিং রিপোর্টে সুমিত রায়ের কথিত জবানবন্দির উল্লেখ ঘিরে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, BNSS-এর ১৮০ ধারায় রেকর্ড করা ওই জবানবন্দিতে সুমিত রায় দাবি করেছেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে যে, তাঁর আর্থিক লেনদেন এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়ার বিষয়গুলি তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর কোষাধ্যক্ষের নির্দেশে করা হয়েছিল।

শুধু তাই নয়, শালবনী জমি মামলায় কথিতভাবে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ দলীয় তহবিলে জমা পড়েছিল বলেও CID-এর ফরওয়ার্ডিং রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগ ও দাবি এখনও তদন্তের আওতায় রয়েছে এবং আদালতে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়।এর আগে CID-এর দাবি ছিল, সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অমিত ঘোষ, নিত্যানন্দ রায় ও লক্ষ্মীকান্ত ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

জমি সংক্রান্ত লেনদেন, অর্থের আদান-প্রদান এবং তাঁদের কথিত ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে CID।এখন পাঁচ দিনের হেফাজতে চার অভিযুক্তকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করে কী তথ্য বেরিয়ে আসে, বাজেয়াপ্ত পাঁচ মোবাইল ও নথিতে কী সূত্র মেলে এবং কথিত আর্থিক লেনদেনের জাল কতদূর বিস্তৃত—শালবনী জমি মামলার তদন্তে সেই উত্তরই এখন খুঁজছে CID।