নিজস্ব সংবাদদাতা: দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর পশ্চিম এশিয়ায় সাময়িক সংঘর্ষবিরতির আবহ তৈরি হলেও হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা এখনও তুঙ্গে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর এই জলপথে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই আবহেই মঙ্গলবার প্রায় ৪০ মিনিট ফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।ভারতে নিযুক্ত মার্কিন দূত সার্জিও গোর জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং ভারত-আমেরিকার কৌশলগত সম্পর্ক—এই তিনটি বিষয়ই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল। সূত্রের খবর, হরমুজ প্রণালীকে “উন্মুক্ত ও সুরক্ষিত” রাখা এখন গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি, এবং এই বিষয়ে দুই দেশই একমত হয়েছে।ফোনালাপের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, “বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা হল। দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীকে উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখার গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।”কূটনৈতিক সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আলোচনার সময় ট্রাম্প মোদিকে বলেন, “We all love you”, যার পাল্টা উত্তরে মোদি জানান, “ভারতবাসী আপনাকেও ভালোবাসে।” এই উষ্ণ বার্তা দুই দেশের সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতাকেই আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে ভারতের জ্বালানি আমদানি, তেলের দাম এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়তে পারে। সেই প্রেক্ষিতে মোদি-ট্রাম্পের এই ফোনালাপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভারতের লক্ষ্য স্পষ্ট—পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত উত্তেজনা হ্রাস, শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং হরমুজে অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা।
হরমুজ অবরোধে বিশ্বজুড়ে চাপ, ট্রাম্প-মোদির ৪০ মিনিট ফোনালাপে উঠে এল ভারতের বার্তা