অরিন্দম চক্রবর্তী : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল খড়গপুরের তালবাগিচা পোস্ট অফিস মোড়ে খড়গপুর সদরের তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকারের সমর্থনে এক জনসভায় যোগ দিলেন ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব)। নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি কর্মীদের উদ্দেশে ঐক্যের বার্তা দেন এবং উন্নয়নকে সামনে রেখেই ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।দেব বলেন, “মানুষের ভালোবাসা, আশীর্বাদ এবং বিশ্বাস থাকলে যে কোনও দলের প্রার্থী চোখ বন্ধ করেই জিতে যেতে পারে। আমি খড়গপুরে এসেছি আমাদের প্রার্থী প্রদীপ সরকারের জন্য আপনাদের আশীর্বাদ চাইতে।” ২০২১ সালের পরাজয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই খড়গপুরে তৃণমূলের হারার মূল কারণ ছিল। তাঁর কথায়, “সেই দ্বন্দ্ব না থাকলে তৃণমূলকে হারানোর ক্ষমতা অন্য কোনও দলের ছিল না।” শুধু খড়গপুর নয়, গোটা বাংলার তৃণমূল কর্মীদের প্রতি তিনি আবেদন জানান, নিজেদের রাগ-অভিমান ভুলে দলীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষা করে একজোট হয়ে ভোটের ময়দানে নামতে হবে।

প্রচারে ঘরে ঘরে পৌঁছে মানুষের কাছে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ তুলে ধরার উপর জোর দেন দেব। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হলে বাংলার সব আসনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের ঝুলিতে যাবে।বক্তব্যে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির বিরোধিতা করে দেব বলেন, “নির্বাচন কখনও মন্দির-মসজিদ দিয়ে হয় না, উন্নয়ন দিয়েই হয়।” তাঁর মতে, মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই যে কোনও নির্বাচিত সরকারের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।এদিন তিনি রাজ্য সরকারের একাধিক জনমুখী প্রকল্প— লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবশ্রী, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী ও সবুজসাথীর উল্লেখ করে বলেন, গ্রামের বহু দরিদ্র পরিবার এই প্রকল্পগুলির সরাসরি সুফল পেয়েছেন। খড়গপুরের পাশাপাশি সারা বাংলার ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার আগে নিজের পরিবার ও প্রাপ্ত সরকারি সুবিধার দিকে একবার তাকিয়ে দেখা উচিত।দেবের কথায়, “ভোট আপনার গণতান্ত্রিক অধিকার। ভোট দেওয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, কেন ভোট দিচ্ছেন। শুধুই স্লোগান নয়, আপনার পরিবারের কাছে কোন সরকার কাজ পৌঁছে দিয়েছে, সেটাও ভাবুন।”সবশেষে ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “যেদিন দেখব আমাদের সরকার ধর্ম দেখে কাজ করছে, সেদিন আমি এই সরকার ছেড়ে দেব।” আগামী ২৩ তারিখ উন্নয়নের স্বার্থে তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকারকে আশীর্বাদ করার আবেদন জানান তিনি।এই সভাকে ঘিরে খড়গপুর সদরে তৃণমূলের প্রচারে নতুন গতি এসেছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।