নিজস্ব সংবাদদাতা : বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি কথাশিল্পী তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতায় আয়োজিত এক বিশেষ সাহিত্য অনুষ্ঠানে ‘তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় স্মৃতি সম্মান’-এ ভূষিত হলেন বীরভূমের তরুণ সাহিত্যিক, লেখক ও সমাজসেবী দেবরাজ সাহা। পশ্চিমবঙ্গ সাহিত্য মঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।কলকাতার কৃষ্ণপদ মেমোরিয়াল হলে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গবেষক-সাহিত্যিক তথা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বংশধর সপ্রতিভ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও ইতিহাস গবেষক অধ্যাপক আকবর আলি শাহ, দুই বাংলার প্রখ্যাত কবি বরুণ চক্রবর্তী, পশ্চিমবঙ্গ সাহিত্য মঞ্চের সভানেত্রী রঞ্জনা গুহ, চেয়ারম্যান সঙ্গীতা বসু রায়-সহ সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষাজগতের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে দেবরাজ সাহার ধারাবাহিক ভূমিকা তাঁকে তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক করে তুলেছে। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মভূমি বীরভূমের সন্তান হিসেবে দেবরাজ সাহার সাহিত্যচর্চার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার। সাহিত্য, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতি তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে এ বছরের ‘তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় স্মৃতি সম্মান’-এর জন্য নির্বাচিত করা হয়।অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক তথা পশ্চিমবঙ্গ সাহিত্য মঞ্চের কর্ণধার চন্দ্রনাথ বসু বলেন, “দেবরাজ সাহা শুধু একজন প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ লেখক নন, তিনি নতুন প্রজন্মের সাহিত্যচেতনার এক উজ্জ্বল প্রতিনিধি। সাহিত্য ও সমাজসেবাকে সমান নিষ্ঠায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার তাঁর প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়। আগামী দিনে বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”সম্মান গ্রহণের পর দেবরাজ সাহা বলেন, “এই সম্মান আমার কাছে শুধু ব্যক্তিগত স্বীকৃতি নয়, আরও বড় দায়িত্বের অঙ্গীকার। বাংলা সাহিত্যের মহীরুহ তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে এই সম্মান পাওয়া আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বংশধর ও গবেষক-সাহিত্যিক সপ্রতিভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে এই সম্মান গ্রহণ করতে পারা আমার কাছে বিশেষ গর্বের। তাঁর কাছ থেকে বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা ও সাহিত্যভাবনার অনেক শিক্ষা পেয়েছি। এই সম্মান ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠা, সততা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে সাহিত্যচর্চা এবং সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার অনুপ্রেরণা দেবে।”