থ্যালাসেমিয়া রোগীর মৃত্যু ঘিরে ঘাটাল হাসপাতালে উত্তেজনা, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ!

থ্যালাসেমিয়া রোগীর মৃত্যু ঘিরে ঘাটাল হাসপাতালে উত্তেজনা, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ!

নিজস্ব সংবাদদাতা : থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত এক তরুণীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাতে উত্তেজনা ছড়াল ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ দেখান মৃতার পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ঘাটাল থানার পুলিশ। পরে ঘাটালের বিধায়ক শীতল কপাত হাসপাতালে গিয়ে মৃতার পরিবারের সঙ্গে কথা বললে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চন্দ্রকোনার বালা গ্রামের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সি মোনালিসা ঘটক থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার সকালে রক্ত দেওয়ার জন্য তাঁকে ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের দাবি, মোনালিসার আগে থেকেই শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল।পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে রক্ত দেওয়ার সময় আচমকাই তাঁর খিঁচুনি শুরু হয় এবং শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। পরিস্থিতি দেখে পরিবারের সদস্যরা কর্তব্যরত চিকিৎসককে জানান। তাঁদের দাবি, পরে চিকিৎসক রোগীকে পরীক্ষা করে শরীরে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মাত্রা কম রয়েছে বলে জানান এবং এইচডিইউ-তে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।তবে পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকের পরামর্শের পরও মোনালিসাকে দ্রুত এইচডিইউ-তে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রায় দু’ঘণ্টা পর তাঁর শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে গেলে তাঁকে এইচডিইউ-তে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার আগেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের দাবি।মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতাল চত্বরে জড়ো হন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে তাঁরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। পরে বিধায়ক শীতল কপাতও হাসপাতালে এসে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য এখনও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ স্বীকার করেনি। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, চিকিৎসায় গাফিলতির কোনও অভিযোগ এখনও তাঁদের কাছে প্রমাণিত নয়। তবে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।বিধায়ক শীতল কপাত বলেন, হাসপাতালে এইচডিইউ পরিষেবা থাকা সত্ত্বেও রোগীকে কেন সময়মতো সেখানে স্থানান্তর করা হয়নি, তা খতিয়ে দেখতে হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্টকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মোনালিসার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। আপাতত ঘটনাকে ঘিরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তদন্তের দিকেই নজর রয়েছে।