নিজস্ব সংবাদদাতা: ৯ ফেব্রুয়ারি, সোমবার খড়্গপুর পুরসভা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলায় পূর্বের আদেশ বাতিল করল হাইকোর্ট। উল্লেখ্য, গত ১৯ ডিসেম্বর পরিষেবা প্রদানে ব্যর্থতার অভিযোগে তৃণমূল পরিচালিত খড়্গপুর পুরসভাকে শো-কজ় নোটিস জারি করা হয়েছিল। সূত্র অনুযায়ী, ৩৫টি ওয়ার্ডের এই পুরসভায় বর্তমানে ২৪ জন কাউন্সিলর তৃণমূলের। তাঁদের মধ্যে ২০ জন তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। বাকি আসনগুলিতে নির্দল, সিপিএম ও কংগ্রেস মিলিয়ে দু’জন কাউন্সিলর রয়েছেন।প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে খড়্গপুর পুরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত হন প্রদীপ সরকার। তবে মাত্র আট মাসের মধ্যেই দলীয় কাউন্সিলরদের বিক্ষোভের জেরে শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়। এরপর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয় কল্যাণী ঘোষকে। এবার তাঁর নেতৃত্বাধীন পুরবোর্ডই ভেঙে দেওয়া হয়। গত দু’বছর ধরেই কল্যাণী ঘোষের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলছিলেন তৃণমূলেরই একাংশ কাউন্সিলররা। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর পুরবোর্ডের নিষ্ক্রিয়তা ও পরিষেবা প্রদানে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে পিটিশন দাখিল হয়। তার ভিত্তিতেই ১৯ ডিসেম্বর রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর থেকে শো-কজ় নোটিস পাঠানো হয় পুরসভায়।

অভিযোগের তালিকায় ছিল পর্যাপ্ত পানীয় জল সরবরাহ না হওয়া, নিয়মিত আবর্জনা পরিষ্কার না করা, রাস্তার পর্যাপ্ত আলোর অভাব-সহ একাধিক সমস্যা। সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল পুরসভাকে।নোটিস পাওয়ার পর সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে জবাবও পাঠানো হয়। যদিও সেই বৈঠকে তৃণমূলের দুই কাউন্সিলর অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। এরপর ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রধান সচিবের চিঠি পৌঁছায় পুরসভায়। হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায় শুধু খড়্গপুর পুরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, রাজ্য সরকারের পুরবোর্ড ভাঙার প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলেছে। আগামী দিনে খড়্গপুরের পৌর পরিষেবা ও স্থানীয় প্রশাসনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ নির্ধারণে এই রায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।