স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরের আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের হাসপাতালগুলিতে জোরদার প্রস্তুতি, পরিষেবা ও পরিচ্ছন্নতা খতিয়ে দেখছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা!

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরের আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের হাসপাতালগুলিতে জোরদার প্রস্তুতি, পরিষেবা ও পরিচ্ছন্নতা খতিয়ে দেখছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা!

অভিজিৎ সাহা : রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য পশ্চিম মেদিনীপুর সফরকে ঘিরে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলিতে তৎপরতা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, ডেবরা, সবং, খড়্গপুর, গড়বেতা, শালবনী, কেশপুর-সহ একাধিক সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও জেলা প্রশাসনের কাছে এখনও পর্যন্ত সফরের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ বা আনুষ্ঠানিক সূচি পৌঁছয়নি।সম্ভাব্য এই সফরের খবর সামনে আসতেই জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে শুরু হয়েছে ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। ওয়ার্ড, বহির্বিভাগ, শৌচালয়, করিডর ও হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার করার পাশাপাশি পরিকাঠামোও ঝালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল চত্বরে ভবঘুরে কুকুর-বিড়ালের অবাধ যাতায়াত রুখতেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।উল্লেখ্য, খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতাল, ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, সবং গ্রামীণ হাসপাতাল-সহ জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা পরিষেবা, চিকিৎসক ও নার্সের ঘাটতি এবং পরিচ্ছন্নতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রোগী ও তাঁদের পরিবারের তরফে অভিযোগ উঠেছে। সেই প্রেক্ষাপটেই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরের আগে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH) এবং ডেপুটি সিএমওএইচদের নেতৃত্বে বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন ও পরিষেবার মান যাচাই আরও জোরদার করা হয়েছে।জেলার এক স্বাস্থ্য আধিকারিক জানান, সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সফর করেছেন। এবার ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষ কিংবা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এই সফর হতে পারে।জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী বলেন, "নিয়মিতভাবেই জেলার হাসপাতালগুলি পরিদর্শন করা হয় এবং পরিচ্ছন্নতা-সহ বিভিন্ন পরিষেবার উপর নজর রাখা হয়। তবে এবার প্রতিটি বিষয় আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।"অন্যদিকে, খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালের সুপার গৌতম মাইতি জানান, "আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মীর যথেষ্ট অভাব রয়েছে। মাত্র একজন সুইপার দিয়ে গোটা হাসপাতাল পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত কঠিন। সীমিত পরিকাঠামো ও জনবল নিয়েই আমরা সর্বোচ্চ পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।"স্বাস্থ্য মহলের একাংশের মতে, জেলার সরকারি হাসপাতালগুলির বাস্তব পরিস্থিতি, পরিষেবার মান, পরিকাঠামো এবং জনবলের ঘাটতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করতেই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই সম্ভাব্য সফর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে সফরের আনুষ্ঠানিক সূচি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর অপেক্ষার প্রহর গুনছে।