নিজস্ব সংবাদদাতা : সাইবার প্রতারণার নতুন ফাঁদে পড়লেন আইআইটি খড়গপুরের ডিরেক্টর অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী। অভিযোগ, OTP হাতিয়ে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে পরিচিতদের কাছে টাকা চাওয়ার মেসেজ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি সামনে আসতেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে শিক্ষা মহল ও প্রযুক্তি জগতে।সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার পর ওই অ্যাকাউন্টে থাকা সমস্ত যোগাযোগের তথ্য হ্যাকারদের হাতে চলে যায়।

এরপর তারা অ্যাকাউন্টের মালিকের পরিচয় ব্যবহার করে বন্ধু, সহকর্মী বা আত্মীয়দের কাছে জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে টাকা চেয়ে বার্তা পাঠায়। পরিচিত ব্যক্তির নাম দেখে অনেকেই বিষয়টি যাচাই না করেই টাকা পাঠিয়ে দেন। সেই অর্থ সরাসরি প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যায়।হোয়াটসঅ্যাপ দীর্ঘদিন ধরেই End-to-End Encryption (E2EE) প্রযুক্তির জন্য নিরাপদ মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত। এই প্রযুক্তিতে প্রেরক ও প্রাপক ছাড়া অন্য কেউ বার্তার বিষয়বস্তু পড়তে পারে না। বার্তাগুলি এনক্রিপ্টেড অবস্থায় আদান-প্রদান হয় এবং শুধুমাত্র প্রাপকের ডিভাইসেই তা ডিক্রিপ্ট হয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হোয়াটসঅ্যাপের এনক্রিপশন ভাঙা না হলেও ব্যবহারকারীর অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে OTP সংগ্রহ করে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে প্রতারকরা। একবার OTP এবং লগইন অ্যাক্সেস পেয়ে গেলে হ্যাকাররা নতুন ডিভাইসে অ্যাকাউন্ট চালু করে ফেলে।
প্রতারণা এড়াতে কী করবেন?
- কোনও অবস্থাতেই OTP কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না।
- হোয়াটসঅ্যাপে Two-Step Verification বা Two-Factor Authentication চালু রাখুন।
- পরিচিত কারও কাছ থেকে টাকা চাওয়ার মেসেজ এলে ফোন করে বা অন্য মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করুন।
- সন্দেহজনক লিঙ্ক, অ্যাপ বা QR কোডে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন।
- হোয়াটসঅ্যাপে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সতর্কবার্তা পেলে গুরুত্ব সহকারে যাচাই করুন।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি ব্যবহারকারীর সচেতনতাই এই ধরনের প্রতারণা রোধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।