Skip to content

তেহরানে রক্তাক্ত রাত, খামেনেই নিহতের ঘোষণায় কান্নায় ভেঙে পড়ল ইরান—ট্রাম্পকে ‘চরম মূল্য’ চুকানোর হুঁশিয়ারি!

নিজস্ব সংবাদদাতা : মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ আরও কালো। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার পর তেহরানে ভয়াবহ হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, ৮৬ বছর বয়সী আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই—এমনটাই রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারে ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি টেলিভিশনে মৃত্যুসংবাদ প্রকাশ হতেই শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে রাজধানী। জাতীয় পতাকা গায়ে জড়িয়ে অশ্রুসিক্ত অবস্থায় রাস্তায় নামতে দেখা যায় বহু অনুগামীকে। কেউ হাতে খামেনেইয়ের ছবি, কেউ পোস্টার তুলে ধরেছেন ‘প্রিয় নেতা’র স্মরণে। শনিবার ও রবিবারের মধ্যবর্তী রাতে মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ হামলায় তিনি নিজের দপ্তরেই প্রাণ হারান বলে দাবি করা হয়েছে।

সরকারি চ্যানেল Press TV-তে খবরটি ঘোষণা করার সময় সঞ্চালিকা মরিয়ম আজরচেহর লাইভ অনুষ্ঠানেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-কে এর চরম মূল্য দিতে হবে। খুব শীঘ্রই বদলা নেওয়া হবে।”ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে দুর্বল করার লক্ষ্যেই আমেরিকার এই রাতভর অভিযান—এমন অভিযোগ উঠেছে তেহরান থেকে। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে শোকমিছিল শুরু হয়েছে।

হাতে তাঁর ছবি নিয়ে নীরব দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের ভিড়ই যেন বলে দিচ্ছে, ঘটনাটি কতটা গভীর অভিঘাত ফেলেছে।অন্যদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড দাবি করেছে, তারা ইজরায়েলের ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে এবং বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে।বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের চাপা উত্তেজনা, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সন্দেহ, আঞ্চলিক আধিপত্যের লড়াই—সব মিলিয়ে বিস্ফোরণের মাটি প্রস্তুত ছিল। 

May be an image of text that says 'Prime Minister of Israel Prime Minister Benjamin Netanyahu: "My brothers and sisters, citizens of Israel, a short while ago, Israel and the United States embarked on an operation to remove the existential threat posed by the terrorist regime in Iran.'

ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাত নতুন মাত্রা নিয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) ইসরায়েলের জরুরি পরিষেবা সংস্থা Magen David Adom জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল আবিব এলাকায় এক মহিলা নিহত এবং অন্তত ২১ জন আহত হয়েছেন। পাল্টা হিসেবে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানায়, আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলায় ইরানে কমপক্ষে ২০১ জন নিহত ও ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন।

এই মৃত্যুর ঘটনায় শুধু ইরান নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতার ইঙ্গিত স্পষ্ট। পাল্টা প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি ঘিরে এখন প্রশ্ন—এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেবে? বিশ্ববাসীর নজর এখন তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপে।

Latest